Breaking News
Home / জাতীয় / ত্রিশালে তৃণমূল চায় নৌকা বিরোধীরা নেতৃত্বে না আসুক

ত্রিশালে তৃণমূল চায় নৌকা বিরোধীরা নেতৃত্বে না আসুক

এস.এম রুবেল আকন্দ:
দীর্ঘ ১৯ বছর পর ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ১ জুলাই ২০২২ইং শনিবার বিকেলে সরকারী নজরুল একাডেমীর মাঠে নজরুল মঞ্চে। কিন্তু অনিবার্য কারনে তা স্থগিত করা হয় সম্মেলনের ঠিক দুই দিন আগে। এতে নেতা-কর্মী ও ত্রিশালের মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত আবার সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা হয়েছে ২১ জুলাই। এ সম্মেলনে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চান কর্মীবান্ধব নেতা নেতৃত্বে আসুক, অতীতে যারা বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীদের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিরোধিতা করেছে তারা যেন কোন অবস্থাতেই সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হতে না পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ত্রিশালের কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের প্রার্থীর হয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। ফলে আওয়ামী লীগের নৌকা পরাজিত হয়। যারা নৌকাকে পরাজিত করেছেন তাদের অনেকেই এ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে হয়েছেন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী? ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতা করে আনারসের পক্ষে নির্বাচন করেছেন। প্রচারণা চালিয়েছেন। মিছিল মিটিং সমাবেশ করেছেন। ফেসবুকসহ সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছিল। নৌকার বিরুদ্ধে ও আনারসের পক্ষে বক্তব্য দেয়ার কারনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদেরকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।
ত্রিশাল পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান আনিছের বিষয়ে জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পৌরসভার মেয়র হওয়ার যোগ্যতা অর্জনকারীকে দল থেকে বহিস্কার করা হলেও এর চাইতেও অধিক অপরাধে অপরাধীদের দলে অবস্থান তৈরি করে দলকে বিতর্কিত করা হচ্ছে বলে মতামত ব্যক্ত করছেন দলটির অনেক সমর্থক ও নেতা-কর্মী। তা হলে মেয়র আনিছের কি অপরাধ?
২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সম্মেলনের ১০ বছর পর আহবায়ক কমিটি হলেও তা দিয়েই কোন রকমে চলেছে ৯ বছর যাবৎ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। এ অবস্থায় সাবেক পুর্ণাঙ্গ কমিটির একটি অংশ দাবি করেছিল, তাদের কমিটিই পুণর্বহাল রেখেছে কেন্দ্র। এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর গ্রুপিং রাজনীতির কারণে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছিল অনেক নেতাকর্মী। টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগে নিয়মিত কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব দেখলেও দেড় যুগের বেশি সময়েও কোনো সম্মেলন না থাকায় হতাশায় ছিল ত্রিশালের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘদিন পর হলেও এ সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনে যেন সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, ত্যাগী, কর্মীবান্ধব ও দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিরা স্থান পায় ও বিতর্কিতরা যেন কোনোভাবেই কমিটিতে না আসতে পারে সে দাবি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। আওয়ামী লীগের ঘাটি বলে খ্যাত ত্রিশালের আওয়ামী নেতৃত্ব নিয়ে নানামুখী জল্পনা কল্পনা চলছে। এ সম্মেলনকে ঘিরে ত্রিশালে নেতা-কর্মী ও সাধারন মানুষের মধ্যে বহুমূখী সমীকরণ গ্রুপিং লবিং চলছে। আবার স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা এ সম্মেলনে এমন নেতৃত্ব বের হয়ে আসবে যারা ওয়ার্ড থেকে উপজেলা সমন্বয় করে বিশাল কর্মী বাহিনীর সংগঠন ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও চাঙ্গা করবে। আগামী দিনের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিবে। সাবেক একজন তুখোর ছাত্রনেতা বলেন, ত্রিশালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নেতা নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক কর্মীবান্ধব যেন হয়, যুদ্ধাপরাধী পরিবার, বিদ্রোহী প্রার্থী/সমর্থক গোষ্ঠীর যেন না হয়। বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে কে কতটা ভালোবাসেন, কার আদর্শ কি ইতিহাস সাক্ষ্য দিবে। ব্যক্তি স্বার্থে যে দলকে বারবার পরাজিত করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে উন্মাদনায় মেতে উঠে, আবার সেই দলের নেতা হতে চাওয়া কোন আদর্শের মধ্যে পড়ে। এবার জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন? ধানীখোলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থক আহমদ আলী বলেন, সবাই চায় নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক। অনেক আগেই এ সম্মেলন হওয়া দরকার ছিল। জানা গেছে, সভাপতি পদ প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান এমপি হাফেজ মাওলানা রুহুল আমীন মাদানী, মো. আবুল কালাম, নবী নেওয়াজ সরকার, মো. হাবিবুর রহমান খান, এএনএম শোভা মিয়া আকন্দ, মো. আব্দুল বারী খান প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীরা হলেন- মো. ইকবাল হোসেন, জিয়াউল হক সবুজ, আশরাফুল ইসলাম মন্ডল, হুমায়ুন কবীর আকন্দ, জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, একেএম মাহবুবুল আলম পারভেজ, ইমাম হোসাইন সাজু, আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদ প্রত্যাশী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সম্মেলনকে সফল করার জন্য আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কখনো কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি বা কারও পক্ষে অবস্থান নেইনি। আমি আমার দল ও নেত্রীর প্রতি আস্থাশীল থেকে কাজ করে যাচ্ছি এবং যেতে চাই। আমি সাধারন সম্পাদক হিসেবে সুযোগ পেলে সকল বিভেদ ভূলে সবাইকে নিয়ে ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী মডেল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদ প্রত্যাশী আশরাফুল ইসলাম মন্ডল বলেন, এ সম্মেলনকে ঘিরে সমস্ত ত্রিশাল জুড়েই একটা আনন্দ, উৎসব ভাব বিরাজ করছে। আশা করি আমরা একটি সুন্দর সম্মেলন ত্রিশালবাসীকে উপহার দিতে পারবো। ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ প্রত্যাশী মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, আমি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছি। বর্তমানে ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যক্রমের স্থবিরতা আমাকে মর্মাহত করে। কেউ কেউ সরাসরি দলের কোনো কর্মকান্ডে জড়িত না থেকেও হঠাৎ করে নমিনেশন পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। অনেকেই দলের নির্দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর হলেও এবার সুযোগ এসেছে দলকে পুণর্গঠনে উপজেলার নেতৃত্বে আসার। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিবেন সে অনুযায়ী কাজ করবো। ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার জন্য ত্যাগী নেতাদের নিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল করবো। এ সুযোগ পেতে সবার সহযোগিতা চাই।
ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ প্রত্যাশী মো. আবুল কালাম বলেন, আমাকে সম্মেলন পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সম্মেলনকে সফল করার জন্য আমরা নিরলস চেষ্টা করেছি। আমি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কখনো কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি বা কারও পক্ষে অবস্থান নেইনি। আমি আমার দল ও নেত্রীর প্রতি আস্থাশীল থেকে কাজ করে যাচ্ছি এবং যেতে চাই। সভাপতি হিসেবে সুযোগ পেলে সকল বিভেদ ভূলে সবাইকে নিয়ে ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগকে একটি মডেল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলবো। সম্মেলনের প্রস্তুতি ও প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে কয়েকজনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ডা. দিপু মনি বলেছেন, রাজাকারের সন্তান, পরিবারের সদস্য কখনও আওয়ামী লীগে আসবেন না। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, গডফাদারদের আওয়ামী লীগে রাখা হবে না। দলের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে তাদেরকে রাখা যাবে না।

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ের একতা প্রতিবন্ধি উন্নয়ন স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবস পালিত

সদর উপজেলার আরাজী ঝাড়গাঁওয়ের একতা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিভিন্ন আয়োজনে জাতির জনক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *