Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / নিউজ আপডেট / দেশে এক কোটি মানুষকে আজ টিকা দেওয়া হবে

দেশে এক কোটি মানুষকে আজ টিকা দেওয়া হবে

ফাহাদ আহমেদ মিঠু (সি আর) : দেশের এক কোটি মানুষকে শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রথম ডোজের করোনার টিকা দেয়ার কর্মসূচি পালন করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যদিয়ে শেষ হবে প্রথম ডোজ টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম। দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ প্রয়োগ কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে শনিবারের পর প্রথম ডোজ টিকাদান বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণায় গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা মানুষের উপচেপড়া ভিড়। টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। দেশে এ পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার ৬৪ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণকারীর সংখ্যা ৪৮ শতাংশ এবং সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষ নিয়েছেন বুস্টার ডোজ।

শনিবারের পর দেশে করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ আর দেয়া হবে না বলে আগেই জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে কেবল বিশেষ প্রয়োজনের নিরিখে কারও প্রথম ডোজ দেয়ার দরকার হলে সেটা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৬ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ‘একদিনে এক কোটি’ কোভিড টিকা দেয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এরপর দ্বিতীয় ডোজ এবং বুস্টার ডোজ কার্যক্রম আরও গতিশীল করার জন্য তারা মনোযোগ দিবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত এই ঘোষণার পর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে টিকাকেন্দ্রে ভিড় বাড়তে থাকে। স্বাস্থ্য বিভাগের ঘোষণা মতে, টিকার নেয়ার ক্ষুদে বার্তা এবং নিবন্ধন ছাড়াই মানুষ এখন টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এজন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে লাইন দিচ্ছেন টিকা প্রত্যাশীরা। শ্রমিক ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ বেশি দেখা যাচ্ছে টিকা কেন্দ্রে। এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে একটা সংশয় তৈরি হয়েছে যে ২৬শে ফেব্রুয়ারি পর তারা করোনার টিকা নিতে পারবেন না।

গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এক কোটি ডোজ টিকা দেয়ার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এমনকি প্রয়োজন হলে প্রথম ডোজ টিকাও নেয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হতে পারে। আমরা দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ নিয়ে কিছুটা ব্যস্ত থাকবো। আমাদের ক্যাম্পেইন হয়তো থাকবে না, কিন্তু টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হবে না।

২৬ ফেব্রুয়ারির পর টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হবে কিনা- প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রয়োজনের নিরিখে, খুবই যদি প্রয়োজন থাকে, সেক্ষেত্রে আমরা আলাদা ক্যাম্পেইন করে দেবো। তাছাড়া প্রথম ডোজের রুটিন টিকাদান কর্মসূচি আর চলবে না।

তিনি আরো বলেন, যদি প্রয়োজন হয়, যেটা অত্যাবশ্যকীয়, যদি কোনো স্থানে ৫০০ মানুষ বাদ রয়েছে, টিকার আওতায় তারা আসেনি এখনো, তখন সেখানে দেয়া হবে। কিন্তু এখনকার মতো গণটিকা আর থাকবে না।

ডা. শামসুল হক বলেন, বেশির ভাগ মানুষকে আমরা ২৬শে ফেব্রুয়ারি টিকার আওতায় আনতে চাই। কিন্তু কেউ যদি বিশেষ কারণে, যদি কেউ অসুস্থ থাকেন, তাকে তো দিতে হবে। আর বিশেষ কারণে প্রথম ডোজ দেবো, নয়তো নয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি টিকা পেতে জন্মনিবন্ধন বা কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগবে না। সেখানে মোবাইল নম্বর দিয়েই টিকা নেয়া যাবে। মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তাদের তথ্য নথিভুক্ত করে টিকা দেয়া হবে। তাদের একটি করে কার্ড দেয়া হবে। সেটিই হবে তার টিকা নেয়ার প্রমাণ। যাদের আছে তারা প্রয়োজনে নিবন্ধন করে আসতে পারেন। পাশাপাশি নিয়মিত টিকা কেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম চলবে। পর্যাপ্ত টিকার মজুত আছে। প্রথম ডোজের টিকাকে একটা ধারায় আনতে ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ করা হবে। আর এসব কিছুর প্রস্তুতি এবং নির্দেশনা ইতিমধ্যে দেশের সব সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

২৬ ফেব্রুয়ারির কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, এক কোটি টিকা দেয়ার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যরা এসব স্থান নির্ধারণ করবেন। স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও হতে পারে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে দল থাকবে। সেদিন নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরেও প্রতি উপজেলায় পাঁচটি, প্রতি জেলায় ২০টি করে ভ্রাম্যমাণ দল থাকবে। যেখানে জনসমাগম বেশি সেখানে যেন তারা গিয়ে টিকা দিয়ে আসতে পারে।

ডা. শামসুল হক জানান, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটি জোনে ৩০টি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রতিটি জোনে ৪০টি, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে প্রতিটি জোনে ৬০টি করে এবং খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুরের প্রতিটি জোনে অতিরিক্ত ২৫টি করে ভ্রাম্যমাণ দল থাকবে। ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলার প্রতিটি দল ৩০০ জনকে এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি দল ৫০০ জনকে টিকা দেবে। ৬ হাজার ৫২টি অস্থায়ী এবং ৭শ’র বেশি স্থায়ী কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে।

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে বিনামূল্যে অসহায় পরিবারের মাঝে গরু প্রদান

মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং ওয়ার্ল্ডভিশনের ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষে অতি দরিদ্র পরিবারের মাঝে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *