Breaking News
Home / অপরাধ / যশোরে পর্বশত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা থানায় মামলা করে বিপাকে বাদি

যশোরে পর্বশত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা থানায় মামলা করে বিপাকে বাদি

বিএম মিলন, স্টাফ রিপোর্টার:

যশোরের কুয়াদায় ব্রাক্ষণডাঙ্গা গ্রামে পূর্বশত্রুতার জের ধরে পিতা ও পুত্রকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় মনিরামপুর থানায় মামলা করে বিপাকে পড়েছেন সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
মামলার বাদি গনমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছন, আসামিগন বাদিপক্ষকে মামলাটি তুলে নিতে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে বাদিপক্ষসহ তার পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
যে কোন সময় আসামিগন তাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে তারা আশাংকা করছে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে এলাকাবাসি জানিয়েছন।
উল্লেখ্য, মনিরামপুরের ভোজগাতী ইউনিয়নের কুয়াদা বাজার সংলগ্ন জামজামি গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬১) বাদি হয়ে গত ৩ ডিসেম্বর মনিরামপুর থানায় ৩ জনকে অাসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আসামিরা হলো- ব্রাক্ষণডাঙ্গা গ্রামের আজগার আলীর ছেলে রায়হান (২৬), মৃত বেলায়েত আলীর মেয়ে শিরিনা খাতুন (৪৫), ও রায়হানের স্ত্রী ইয়াসমিন খাতুন (১৯)।
বাদি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, আসামিদের সাথে আমাদের পূর্ব হতে বিরোধ চলে আসছিলো। এ কারণে আসামিগন প্রায় সময় আমাকে খুন-জখমের হুমকি দিত।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ডিসেম্বর আনুমানিক সকাল ৮ টার সময় আমার গোয়াল ঘর হতে গরু নিয়ে বাড়ির বাইরে বাধতে ছিলাম। ওই সময় আসামিগণ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার বসত বাড়ির সামনে আমার ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে অনধিকারভাবে প্রবেশ করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
তখন আমি আসামিদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ১নং আসামি রায়হান তার হাতে থাকে ধারালো ছুরি দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে আমার পিঠের বাম পাশে স্ব-জোরে আঘাত করে, যাতে ওই ছুরি আমার পিঠে ঢুকে গভীর কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। সে সময় আমি ডাকচিৎকার দিলে আমার ছেলে রাসেল হোসেন (২৫), ছুটে এসে আসামিদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করতে গেলে আসামি রায়হান তার হাতে থাকা সেই ধারালো ছুরি দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে আমার ছেলের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারিলে, ওই কোপ ডান হাত দিয়ে ঠেকাইলে তার ডান হাতের কুনুইয়ের উপর গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। যাতে তার ওই ডান হাতে ৯ টি সেলাই দিতে হয়। ওই সময় আসামি রায়য়হান পুনরায় আমার ছেলের মাথা লক্ষ্য করে পর পর দুটি কোপ দেয়, যার একটি কোপ আমার ছেলের বাম কাধের নিচে বাম হাতের বাহুতে লেগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। যাতে ৩টি সেলাই দিতে হয়। এবং অপর একটি কোপ আমার ছেলের মাথার ডান পাশে লেগে গভীর হাড়কাটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। ওই সময় আমি ও অামার ছেলে ডাকচিৎকার করিলে আমার ছেলের বউ উর্মি খাতুন (১৯), ও আমার স্ত্রী রমিছা খাতুন (৫০), ঠেকাইতে আসিলে ১নং আসামি রায়হান আমার ছেলের বউ এর পেটে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় আমরা ডাকচিৎকার দিলে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তখন আসামিরা আমাদের খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থাল ত্যাগ করে। তখন স্থানীয়দের সহতায় আমি ও আমার ছেলে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করি।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আসামিগন এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস ও পায় না। এছাড়া ও আসামিগণের বিরুদ্ধে এলাকায় নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাদিপক্ষসহ তার পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Check Also

নতুন বছরের শুরুতে প্রতিবন্ধি জাহাঙ্গীরের পাশে তৌফিক এন্টারপ্রাইজ

আশিকুর রহমান নয়নমাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন এক নং তাইন্দং বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *