Breaking News
Home / অপরাধ / ৬ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন

৬ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন

ফাহাদ আহমেদ মিঠু (সি আর):

শবে বরাতের রাতে সাভারের আমিনবাজারে ৬ ছাত্রকে ডাকাত সাজিয়ে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মালেকসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। অন্য আসামিদের মধ্যে ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২ ডিসেম্বর ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ইসমত জাহান এর আদালত এ রায় ঘোষণা করে। মামলার ৫৭ আসামির মধ্যে ৪৫ জনকে সকাল সাড়ে ৮ টায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে আদালতে আনা হয়। এরপর তাদের রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়।সেখান থেকে বেলা ১১ টার পর এজলাসে তোলা হয়। মামলার মোট আসামি ৬০ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে তিনজন মারা গেছেন। অবশিষ্ট ৫৭ জনের মধ্যে ৪৫ জন ছিলেন হাজতে। পলাতক রয়েছেন ১২ জন। গত ২২ নভেম্বর আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। একইসঙ্গে জামিনে থাকা ৪১ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলা ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হলো। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই রাতে সাভারের আমিন বাজারের বড়দেশি গ্রামের কেবলাচরে ওই ৬ শিক্ষার্থী ঘুরতে গেলে ডাকাত সন্দেহে তাদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত ৬ শিক্ষার্থী হলেন – ধানমন্ডির ম্যাপললিফ স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শাম্মাম, মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহীম খলীল, বাংলা কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ, তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান, মিরপুরের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবীর মুনিব এবং বাংলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান। নিহত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রথমে ডাকাতির মামলা করা হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধু আল- আমিন গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় প্রকৃত ঘটনা জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ওই ঘটনায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। সেটিতে পিটিয়ে হত্যায় জড়িতদের আসামি করা হয়। ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি তদন্ত শেষে র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন আহমেদ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এরপর একই বছরের ৮ জুলাই আদালত ৬০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করে। বিচার চলাকালে মামলায় ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ঘটনার পর এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১৪ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। চার্জশিট ভুক্ত ৬০ আসামি হলেন- ডাকাতি মামলার বাদী আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বার, আব্দুর রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেফু, নিহর ওরফে জমশের আলী, মীর হোসেন, মজিবর রহমান, কবির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, রজুর আলী সোহাগ, আলম, রানা, আঃ হালিম, আসলাম মিয়া, শাহীন আহমেদ, ফরিদ খান, রাজীব হোসেন, হাতকাটা রহিম, মো: ওয়াসিম, সেলিম মোল্লা, সানোয়ার হোসেন, শামসুল হক ওরফে শামচু মেম্বার, রাশেদ, সাইফুল, সাত্তার, সেলিম, মনির, ছাব্বির আহমেদ, আলমগীর, আনোয়ার হোসেন আনু, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, বশির, রুবেল, নুর ইসলাম, আনিস, সালেহ আহমেদ,শাহাদাত হোসেন রুবেল, টুটুল, অখিল, মাসুদ, নিজামউদ্দিন,মোখলেস, কালাম, আফজাল, বাদশা মিয়া তোতন, সাইফুল, রহিম, শাহজাহান, সুলতান, সোহাগ, লেমন, সায়মন, এনায়েত, হায়দার, খালেদ, ইমান আলী, দুলাল ও আলম। এর মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন।

Check Also

নতুন বছরের শুরুতে প্রতিবন্ধি জাহাঙ্গীরের পাশে তৌফিক এন্টারপ্রাইজ

আশিকুর রহমান নয়নমাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন এক নং তাইন্দং বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *