Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / ঠাকুরগাঁওয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৫ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত : ক্লাস বন্ধ

ঠাকুরগাঁওয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৫ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত : ক্লাস বন্ধ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঁচজন শিক্ষার্থী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ঐ দুই শ্রেণির ক্লাস বন্ধ রেখেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কলোনী এলাকায় অবস্থিত বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. ফারহানা পারভীন। গত সোমবার ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির ২ জন ও পঞ্চম শ্রেণির ৩ জন ছাত্রীর করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা দেয়া হয়। মঙ্গলবার নমুনা পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। করোনায় আক্রান্ত চতুর্থ শ্রেণির ২ জন ও পঞ্চম শ্রেণির ৩ জনের বয়স ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তারা সবাই মেয়ে এবং তারা ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকার সদস্য। প্রধান শিক্ষক মোছা. ফারহানা পারভীন বলেন, আমার বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪২৬ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এরমধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে রয়েছে ৮৪ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে রয়েছে ৭৬ জন ছাত্র-ছাত্রী। করোনার ভাইরাসের কারণে ১৭ মাস বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পুণরায় স্কুল খোলা হয়। শিডিউল অনুযায়ী প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেয়া হয়। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করার পর শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নেয়া হয়।ফারহানা পারভীন বলেন, গত বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত চতুর্থ শ্রেণির ২ জন ও পঞ্চম শ্রেণির ৩ জন ছাত্রী ক্লাসে উপস্থিত ছিল। কিন্তু সেদিন তাদের মধ্যে করোনার কোন লক্ষণ দেয়া যায়নি। বিদ্যালয় থেকে যাওয়ার পর ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে খোঁজখবর নেয়া হয় ছাত্রীদের। এসময় সরকারি শিশু পরিবার বালিকা কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের ওখানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়–য়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর থেকে আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের বিদ্যালয়ে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর রাখতে শুরু করি। এছাড়াও বিদ্যালয় খোলার পর থেকে আমরা নিয়মিত প্রত্যেকটি ছাত্র-ছাত্রীর খোঁজখবর রাখছি। ফারহানা পারভীন বলেন, গত মঙ্গলবার খোঁজ নিলে সরকারি শিশু পরিবার বালিকা কর্তৃপক্ষ জানায় আমাদের স্কুলে পড়–য়া চতুর্থ শ্রেণির দুইজন ও পঞ্চম শ্রেণির তিনজন ছাত্রী জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছে। সেদিনি তাদের করোনার নমুনা দেয়া হয় পরীক্ষার জন্য। বুধবার আমরা জানতে পারি আমাদের স্কুলে পড়–য়া চতুর্থ শ্রেণির ২ জন ও পঞ্চম শ্রেণির ৩ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তাক্ষণিকভাবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে আপাতত চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে এবং প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম সচল রয়েছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকার উপ-তত্ত্বাবধায়ক মোছা. রিক্তা বানু বলেন, গত বৃহস্পতিবার শহরের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়–য়া ১জন ছাত্রী জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও অনেকের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়–য়া ৫ জন ছাত্রী জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়। গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত শিশু পরিবারের ২৫ জন ছাত্রীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে দেয়া হয়। এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়–য়া ৫ জনসহ মোট ১৩ জন ছাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। আক্রান্ত সবাই আমাদের শিশু পরিবারের সদস্য। রিক্তা বানু বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৩ জন ছাত্রীকে আমরা আলাদা ভাবে রেখেছি। তাদেরকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে তারা ভালো আছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার মমতাজ ফেরদৌস বলেন, বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ জন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়। এরপর বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আগামী এক সপ্তাহের জন্য ঐ বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে।।ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: রকিবুল আলম চয়ন বলেন, সরকারি শিশু পরিবার বালিকার ১৩ জন ছাত্রীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আমরা তাদেরকে আলাদাভাবে আইসোলেশনে রেখেছি। এর পাশাপাশি আক্রান্তের দিন থেকেই আমরা তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষেণ করছি। তারা বর্তমানে সুস্থ আছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলার প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসুরক্ষা বজায় রেখে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আমরা সব বিদ্যালয়গুলোকে সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। স্কুলে আশা শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাণ করা হচ্ছে। যদি কোন শিক্ষার্থীর করোনার লক্ষণ দেয়া যায় তাহলে তাক্ষণিকভাবে তার নমুনা পরীক্ষা করছি। তিনি বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, আমরা তাৎক্ষণিক সেসব শ্রেণির ক্লাস বন্ধ রেখেছি এবং তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

Check Also

নতুন বছরের শুরুতে প্রতিবন্ধি জাহাঙ্গীরের পাশে তৌফিক এন্টারপ্রাইজ

আশিকুর রহমান নয়নমাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন এক নং তাইন্দং বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *