Breaking News
Home / অপরাধ / রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক চক্র

রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক চক্র

মোনায়েম মন্ডল: 

গাইবান্ধা সদরের হাট লক্ষ্মীপুর এলাকার সহজ সরল ছেলে গার্মেন্টস কোমস্পানীর সামান্য কর্মচারী রেজাউল করিম(শিমুল) জিরো থেকে হিরো সাজতে তৈরী করেছে প্রতারণার ফাঁদ। রেজাউল করিম শিমুলের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে প্রতারক চক্রের নেটওয়ার্ক। তারা কখনও পরিচয় দেয় আমদানি-রফতানি কারক ব্যবসায়ী। আবার কখনও ডেভলোপার ব্যবসায়ী। ইতোমধ্যে তারা রাজধানীর বারিধারা, নিকুঞ্জ, উত্তরাসহ বেশকিছু জায়গায় আলিশান কার্যালয় ভাড়া নিয়ে ব্যবসার নামে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। গত আগস্ট মাসে বন্ধকি জমি কেনার কথা বলে গুলশান এলাকার একটি ব্যাংকের ম্যানজোরকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয় ৫৫ লাখ টাকা। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ কর্তৃক মাসুদ খান, আসাদুজ্জামান খোকন ও রেজাউল করিম শিমুল নামে তিন প্রতারককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে আসে এসব তথ্য।

সিআইডি বলেছে, পেশাদার এই প্রতারকদের নামে যেসব ব্যাংক হিসাব নম্বর রয়েছে সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অথচ তাদের বৈধ কোনো আয় নেই। এমনকি উত্তরাধিকার সূত্রে তারা কোনো সম্পদের মালিক- এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। প্রতারণায় জড়িত প্রত্যেকেই গাড়ি-বাড়ির মালিক। তাদের বিরুদ্ধে শুধু সিআইডিতে মানি লন্ডারিং ও প্রতারণার ঘটনায় সাতটি মামলা তদন্তাধীন। দুটি মামলায় এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়ছে। কখনও সমস্যায় পড়লে যাতে তাদের অর্থ বেহাত না হয়, তাই তারা নিজেদের ও স্বজনের প্রকৃত নাম-পরচিয় ব্যবহার করে এত হিসাব নম্বর খুলেছে বলে ধারণা করছে সিআইডি। প্রতারক চক্রের সদস্যদের নামে ইতোমধ্যে ৬৬ ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। এ চক্রের দুই সদস্য আটক হলে তাদের স্ত্রী ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার তুলে নিয়েছে। কিছু হিসাব নম্বর থেকে টাকাও তুলে নিয়েছে। তবে রেজাউলের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম টাপ্পা একটি হিসাব নম্বর থেকে ৬০ লাখ টাকা তোলার সময় ব্যাংক তা আটকে দেয়। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া টাকা দ্রুত তুলে সঞ্চয়পত্র কেনার পরিকল্পনা করেছিল সাদিয়া ইসলাম টাপ্পা। প্রতারক রেজাউল করিমের নামে ইউসিবি, প্রাইম, উত্তরা, ট্রাস্ট, স্ট্যার্ন্ডাড র্চার্টাড, ব্র্যাক এবং সিটি ব্যাংকে ২১টি সঞ্চয়ী একাউন্ট রেয়েছে। তার এফডিআর রয়েছে ১৫টি। বিভিন্ন ব্যাংকে তার হিসাব নম্বরের মধ্যে রয়েছে-

২১০১১২৭৯৬১০০১, ৪৭২২১২৭৯৬১০০৭, ৪৭২২১২৭৯১০০৮,

৪৭২২১২৭৯৬১০০৯, ৮৭৫২১২৭৯৬১০০১, ৮৬২২১২৭৯৬১০০১,

৮৬২২১২৭৯৬১০০২, ৮৬২২১২৭৯৬১০০৩, ১৫০৯১০০৪২৯২১৭০০১,

১৫০৯৩০০৪২৯২১৭০৩৮, ১৫০৯৩০০৪২৯২১৭০১০, ১৫০৯৩০০৪২৯২১৭০১১,

১৫০৯৩০০৪২৯২১৭০১২,

১৫০৯৩০০৪২৯২১৭০১৩। রেজাউলের স্ত্রী সাদিয়া ইসলাম টাপ্পা, শ্বশুড় সাইফুল ইসলাম, শ্বাশুড়ি রেখা বেগমের নামেও ডিবিবিএল, প্রাইম, ট্রাস্ট, সিটি ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকে এফডিআর ও চলতি হিসাব নম্বর রয়েছে বলে জানা গেছে। রেজাউল শ্বশুড়ের নামে গাইবান্ধা শহরের মুন্সিপাড়ায় ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ১০ শতক জমি কিনেছে। মুন্সিপাড়ায় আরো একটি জমি কেনার জন্য ১৬ লাখ টাকা বায়না করেছে চাচা শ্বশুড় শাহজাহান সিরাজের শহরের ফলিয়া নামক স্থানের জমি কেনার জন্য ১০ রাক টাকা বায়না করেছে।
সুত্র জানায়, সম্প্রতি গুলশানে একটি ব্যাংকের ম্যানেজার বন্ধককৃত জমি বিক্রি করতে পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি দিলে প্রতারক চক্রটি ফাঁদ পাতে। ব্যাংক ম্যানেজারকে ফাঁদে ফেলে ৫৫ লাক টাকা হাতিয়ে নিলে ব্যাংক ম্যানেজারের দায়ের করা মামলার তদন্তে প্রতারণার তথ্য ফাঁস হয়। ব্যাংক ম্যানেজারকে ফাঁদে ফলেছে প্রতারক মাসুদ ও তার তিন সহযোগী। এরা দু’জন পোশাক কারখানায় কাজ করতে এসে এ পেশায় জড়িয়ে পড়ে। রেজাউলের বাড়ি গাইবান্ধা সদরের লক্ষ্মীপুরে, পিতার নাম বাচ্চা মিয়া। আর আসাদুজ্জামানরে গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের ভাদালিডাঙ্গায়। এ ছাড়া বিদেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানি করে ৩ কোটি টাকা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে গত আগস্ট মাসে রুহুল আমিন নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক চক্রটি। তারা শহিদুল ইসলাম নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ১২ লাখ টাকা। তারা ২০০৭ সাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তারা প্রতারণা করে আসছিল। টার্গেট করা ব্যক্তির কাছে তারা নতুন নতুন ছদ্মনামে হাজির হয়েছে। তাদের চট্টগ্রাম, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে একাধকি ফ্ল্যাটসহ দামি গাড়ি এবং ব্যাংক একাউন্টে তার নামে লাখ লাখ টাকা রয়েছে। তাদের মালিকানায় স্বর্ণের দোকানসহ একাধিক দোকান, ইটভাটা, গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। আসাদুজ্জামান ও রেজাউলের স্ত্রীর নামে কেনা দুটি দামি প্রাইভেটকার আদালতরে নির্দেশে জব্দ করেেছ পুলিশ। আসাদুজ্জামান ও রেজাউলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলাও হয়েছে।

পরে তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সয়িাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে প্রতিবেদন চায় সিআইডি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতারক আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী জেসমিন বেগম, রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী সাদিয়া রহমান (টপ্পা) নামে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৬৬টি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। তবে এখনও মাসুদের ব্যাংক হিসাবের প্রতিবেদেন পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য ফারুকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হবে। সিআইডির একাধিক উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সম্প্রতি এসব তথ্য জানান। তিন প্রতারককে আবারও পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
প্রতারক রেজাউল করিমের আরো চমকপ্রদ ঘটনার নাতিদীর্ঘ খতিয়ান পরবর্তীতে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রতারক শিমুল, মাসুদ ও খোকন হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি
টাকা ॥ রয়েছে ৬৬ ব্যাংক একাউন্ট, দামি গাড়ি-বাড়ির মালিক

Check Also

ভালুকায় ভূমিদস্যু মনির বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি চাই এলাকাবাসী

ভালুকা প্রতিনিধিঃময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নে ভূমিদস্যু মনির হোসেন মনিরবাহিনীর নেতৃত্বে তার সহযোগীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *