Breaking News
Home / ক্যারিয়ার / সুশান্ত দাস গুপ্ত: হাজারো তরুণের আইকন

সুশান্ত দাস গুপ্ত: হাজারো তরুণের আইকন

এজি লাভলু, স্টাফ রিপোর্টার: সুশান্ত দাস গুপ্ত, ১৯৭৭ সালে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার ১০নং সুবিদপুর ইউনিয়নের সুনারু গ্রামের এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

দেশ-বিদেশের তরুন প্রজন্মের ব্লগার আর ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে সুশান্ত দাস গুপ্ত আজ পরিচিত একটি নাম। দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত ব্যক্তিরা আজ জানে তাদের জবাব দিতে আজ আওয়ামী লীগের তরুন তুর্কীরাও প্রস্তত । বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম আজ সারা পৃথিবীর মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিতে সুশান্তের ভূমিকার কথা দেশ-বিদেশের বাংলাভাষী মানুষমাত্রই অবগত আছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ও নেতিবাচক প্রচারনার জবাব প্রদানে নানাবিধ প্রযুক্তির ব্যবহার দেশ-বিদেশে সুশান্ত দাস গুপ্তকে আজ নিয়ে এসেছে আলোচনার তুঙ্গে।

ছাত্র রাজনীতিতে দীর্ঘ এবং ধারাবাহিক ত্যাগ তিতিক্ষার এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপনের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে আজকের সুশান্ত দাস গুপ্ত। বঙ্গবন্ধুকে তিনি দেখার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেননি। কিন্তু পঁচাত্তর পরবর্তি সময়ে তার মৃত্যু নিয়ে চারপাশে নিরন্তর বয়ে চলা দীর্ঘশ্বাস আহাজারি আর ক্রন্দনের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম জন্ম নিয়েছে সেই প্রজন্মের এক সাক্ষী আজকের সুশান্ত দাস গুপ্ত।

সুশান্ত দাস গুপ্ত ১৯৭৭ সালে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার ১০ নং সুবিদপুর ইউনিয়নের সুনারু গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। একটি ধর্মনিরপেক্ষ সোনার বাংলা গড়ার মানসে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন উপযুক্ত বিদ্যাশিক্ষা গ্রহনের মধ্য দিয়ে। পরিবারের সদস্যদের ধারাবাহিকতায় ও অনুপ্রেরণায় হবিগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৯৩ সালে এসএসসি, হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৯৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ঈর্ষণীয় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইজ্ঞিনিয়ারিং এ ভর্তির মধ্য দিয়ে নিজের মেধার পরিচয় রাখার পাশাপাশি রাজনীতিতে হয় তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সমসাময়িক অন্য ছাত্র নেতাদের চেয়ে সুশান্ত আলাদা বিবেচিত হতেন রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন সাংস্কুতিক সংগঠনের একজন সফল আয়োজক হিসেবে। ছাত্র-ছাত্রীদের যে কোন ন্যায্য দাবী দাওয়া আদায়ে আপোষহীন ভূমিকা রাজনীতির বাইরেও সুশান্তকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি।

ক্যাম্পাস ও রাষ্ট্রের সঙ্কটময় সময়েও সুশান্ত দাস গুপ্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক অকুতোভয় মুজিব সৈনিক। এর প্রমাণ পাওয়া যায়, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির কর্তৃক পরিকল্পিত সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের সময়ে সুশান্ত দাস গুপ্তের বলিষ্ঠ অথচ যথোপোযুক্ত পদক্ষেপে। তার বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা ক্যাম্পাসের সমন্বিত উদ্যোগের স্রোতে মিশে বজায় রেখেছিলো ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ। ২০০১ এর সংসদ নির্বাচনের পর সমগ্র বাংলাদেশ চলে যায় ভয়াল মেঘমালার নিচে, সভ্যতার দীপ্র দুপুরে নেমে আসে মধ্যযুগীয় অন্ধকার। সেই বর্বর কালো অন্ধকারের হোতা জামাত-বিএনপি’র ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন দানবীয় সময়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এর নবগঠিত ছাত্রলীগের স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম কর্ণধার সুশান্ত তার বন্ধুদের নিয়ে শিবির-ছাত্রদলের সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সারা বাংলাদেশে আলোড়ন তোলে। এ সাহসী ভূমিকায় জননেত্রী শেখ হাসিনা সুধাসদনে সৌজন্য সাক্ষাতকালে সুশান্তসহ শাবি ইউনিট ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

২০০২ সাল পর্যন্ত সুশান্ত’র নেতৃত্বে শাবি ছাত্রলীগ জনপ্রিয়তার সাথে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এর ফলে শাবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মকান্ড সারাদেশের ছাত্রলীগের অন্যান্য ইউনিটগুলোর জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। যে ধারা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেও দৃঢ়ভাবে অস্তিত্বশীল ও প্রবলভাবে ক্রিয়াশীল রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের প্রথম পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব হিসাবে সুশান্ত দাস গুপ্তকে নির্বাচিত করায় সর্বমহলের গ্রহণযোগ্যতা পায়। সুশান্ত দাস গুপ্তের বলিষ্ট নেতৃত্বে ৯, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ (তিন দিনব্যাপী) অনুষ্ঠিত এই প্রথম পূণর্মিলনীর আয়োজনটি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বর্ণিল ও সফল অনুষ্ঠান হিসাবে ভাস্বর হয়ে থাকবে।

নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের নিয়ে নানাবিধ যেসব নেতিবাচক ধারণা বিদ্যমান তার বিপরীতে এক আদর্শ উদাহরন সুশান্ত দাস গুপ্ত। প্রকৌশলী হিসেবে দেশের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করার সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও ২০০৬ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ মাস্টার্স করার জন্য যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন এবং ২০০৮ সালে ডিস্টিংশনসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন।

সুশান্ত দাস গুপ্ত বিশ্বাস করেন ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে মাঠ কেন্দ্রিক প্রচারণার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রচারণা ছাড়া নতুন প্রজন্মকে সোনার বাংলাদেশ গড়ায় নিবেদিত প্রাণ সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। চারিদিকে মিডিয়াকে ব্যবহার করে স্বাধীনতা বিরোধী ও পাকিস্তানপন্থীদের যে প্রচারনা তার জবাব শুধু মাঠেই নয় প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়েও দেয়া প্রয়োজন। সে লক্ষে যুক্তরাজ্যে আসার পর থেকেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষে ‘অনলাইন এক্টিভিজমে’ সক্রিয় হন তিনি যা রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নেরই অংশ। এ এক্টিভিজমে সুশান্ত সব সময় মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরেছেন সারা পৃথিবীতে। এছাড়াও, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন অত্যন্ত সফলতার সাথে। ‘ই-বাংলাদেশ ডট কম’ , ‘জেনোসাইড বাংলাদেশ আর্কাইভ’ এবং ‘আমার ব্লগ ডট কম’ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে জনমত সৃষ্টিতে সুশান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমান প্রজন্মের গবেষকদের কাছে ‘জেনোসাইড বাংলাদেশ আর্কাইভ’ বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় তথ্য-আকর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সোসিয়াল মিডিয়াতে তার সর্বশেষ সংযোজন আমার এমপি। আমার এমপি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংস্থা । যা সংসদ সদস্যদের মাঝে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের এবং ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে গঠিত হয়েছে । ইতিমধ্যে ইউরোপ বিজনেস এঞ্জেলেস (ইএবিএ) ইউএন, ভারতের ডিজিটাল ফাউন্ডেশন এমপাওয়ারমেন্ট ইন্ডিয়ার (ডিএফই) এম বিলিয়ন্থ এওয়ার্ড দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল পুরস্কারসহ অনেকগুলো আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে সংস্থাটি ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সৃজনশীল সাহিত্যের শাশ্বত ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্যে সুশান্ত দাস গুপ্তের হাত ধরে শুরু হয় সৃজনশীল প্রকাশনী সংস্থা ‘আমার প্রকাশনী’র যাত্রা। মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থের পুণর্প্রকাশনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের ইতিহাসকে যেমন ঋদ্ধ করে তুলেছে, তেমনি বাঙলা সাহিত্যের ধারাকেও ক্রমান্বয়ে করে তুলছে শানিত। নতুন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ লেখকদের সঙ্গে প্রবীণ লেখকদের অভিজ্ঞতার মণিকাঞ্চনে ‘আমার প্রকাশনী’ বিগত তিনটি একুশে গ্রন্থমেলায় রেখেছে নান্দনিকতার সাক্ষর- আর এ পুরো দায়িত্বটি অত্যন্ত সফলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সম্পন্ন করছেন সুশান্ত দাস গুপ্ত।

সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী ব্লগারদের দ্বারা পরিচালিত জনকল্যানমূলক অলাভজনক সংগঠন ‘আমার ফাউন্ডেশন’ এর একজন ট্রাস্টি সুশান্ত দাস গুপ্ত। এ সংগঠনটি সারা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা প্রদান, শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাঠাগার স্থাপন এবং বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সাহিত্য-সংস্কৃতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তৃতার আয়োজন করে থাকে। বর্তমানে ফাউন্ডেশনটি দেশজুড়ে নানা ধরণের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে কাজ করছে।

পেশাগত জীবনে একজন সফল সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, হেলথ এন্ড সেইফটি কনসালটেন্ট এবং একজন সোসিয়াল মিডিয়া কনসাল্টেন্ট। তিনি আমেরিকান এসোসিয়েশন অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারস, ইনস্টিটিউট অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারস ইউকে, চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব বিল্ডিং, চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ এবং ইনস্টিটিউট অব ওকোপেসনাল হেলথ এন্ড সেইফটি’র একজন সক্রিয় সদস্য। এছাড়াও দেশী বিদেশী অনেক নামীদামি প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা এবং কর্মী হিসাবে পরিচিত।

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে অগ্নিকান্ডে ১টি বাড়ি ভস্মীভূত

গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি, স্টাফ রিপোর্টার: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ গতকাল রাত ১০/১১ ঘটিকার সময় হঠাৎ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *