Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / নিউজ আপডেট / বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে চীনের ঋন সহায়তা তাই ঘুম হারাম ভারতীয় মিডিয়ার

বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে চীনের ঋন সহায়তা তাই ঘুম হারাম ভারতীয় মিডিয়ার

মোঃ রাসেল কবির

বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ও বন্টন নিয়ে বছরের পর বছর ভারতের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুঁয়েমিতার কারনে আজও হয়নি বাংলাদেশের জন্য বহুকাঙ্খিত তিস্তা চুক্তি। তিস্তা নদীতে বাঁধ নির্মাণ ও নদী ভাঙ্গন রোধে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও জাপানের কাছে অর্থ সাহায্য চেয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। তারা ঋণ সহায়তা দিতে রাজি না হওয়ায় শেখ হাসিনা সরকার চীনের কাছে তিস্তা নদীতে বাঁধ নির্মাণ ও নদীর গতিপথ ঠিক করে এবং নদীকে গভীর ভাবে খনন করে বর্ষার পানি ধরে রাখতে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চায়। এই ঋণের প্রস্তাব পেয়ে চীন তিস্তা প্রকল্প এলাকায় একটি সমীক্ষা চালায়। এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ৮৪৭২ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করেন। আর চীনের এই অর্থ সহায়তার কারণেই চরম চিন্তার মধ্যে পড়েছে ভারত সরকার। আর তাই ভারতীয় মিডিয়ায় দিন রাত বসে বসে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে ভারতে ঢুকে উত্তর-পূর্ব ভারত দখলের চেষ্টা চালাতে পারে চীন। এক্ষেত্রে তারা মিডিয়ার সামনে যুক্তি দিচ্ছে, তিস্তা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নদীর দুই পাড়ে টাউনশীপ, শিল্পাঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আধুনিক রাস্তাঘাট নির্মাণ করবে চীন। সে ক্ষেত্রে চীনের হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার, শ্রমিক ও বিশেষজ্ঞ প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করবে। তাদের এই বিশাল প্রকল্প এলাকা দেখভাল করার অজুহাতে প্রকল্প এলাকায় চীন তাদের আধাসামরিক বাহিনী নিয়োগ দিবে। আর ওই আধা সামরিক বাহিনী চুপে চুপে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের দিকে এগুতে থাকবে। ভারতের মিডিয়ার বিশ্লেষণ এই যে “এত দিন সোজা পথে যা করতে পারেনি, বাঁকা পথে তাই করতে চাচ্ছে চীন।” ভারতীয় বিশেষজ্ঞ ও মিডিয়ার কাল্পনিক বক্তব্য হচ্ছে,”ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে হয়ত রংপুর বিভাগের জমিজমা দখল করতে পারে চীন।” এ জন‍্য তারা সামনে দুটি উদাহরণ পেশ করছে, একটি হচ্ছে মায়ানমারে চীনাদের তৈরি টাউনশীপ “শিওকোক্কো” যেখানে মায়ানমারের অধিবাসীদেরও প্রবেশ নিষেধ।আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, শ্রীলংকার “হ‍্যামবাম টোটো বন্দর” চীনের চাপে পড়ে ৯৯ বছরের জন্য চীনের কাছে ইজারা দিতে বাধ্য হয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। ভারতীয় মিডিয়াগুলুতে পরিবেশিত বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতকে কোণঠাসা করতে মরিয়া এখন চীন। পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা, মিয়ানমারের পর এ অঞ্চলে ভারতের সবচেয়ে ভালো বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ দিয়ে- ঋণের ফাঁদে ফেলে- রংপুর বিভাগের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ও জেলাগুলোতে নজরদারিও দখলের জন্য সামরিক ও আধা সামরিক স্থাপনা তৈরি করবে চীন। আর এইজন্যই তিস্তা নদীর প্রকল্পের অর্থায়ন ও চীনের অংশগ্রহণ চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ভারত সরকারের। ইন্ডিয়ান মিডিয়া তাদের বিশেষজ্ঞদের এইসব অলীক কল্পনা প্রসূত চিন্তা ও যুক্তি প্রচার ও প্রকাশ করে চলছে। একবারও তাদের ভাবনায় আসছে না, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে চীনা ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিক কাজ করছে এবং তা চীনের অর্থায়নে আর ঐসকল প্রকল্প এলাকায় আধাঁ-সামরিক বাহিনী নিয়োগ দেয়াতো দূরের কথা, একজন আনছারও তাদের দেশ থেকে তারা নিয়ে আসে নাই। আর স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ হিসেবে বাংলাদেশই বা কেন তাদের আধাঁ সামরিক বাহিনীকে ঘাঁটি গাড়তে দিবে? তাছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন আর পাকিস্তান, মিয়ানমার, নেপাল ও শ্রীলংকার মত ভঙ্গুর অর্থনীতি নয় যে, মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে ঋণের ফাঁদে পরবে আর মিয়ানমার ও শ্রীলংকার মত রংপুর বিভাগকে চীনের কাছে দিতে বাধ‍্য হবে। ভারতীয় মিডিয়ার এরূপ বক্তব‍্য বলার আগে একটু জেনে নিতে হবে যে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার।

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সহায়তা

ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *