Breaking News
Home / অপরাধ / কোতয়ালীর পল্লীতে যৌতুকের জন্য অমানবিক নির্যাতনের পড় গৃহবধু তার স্বজনরা গুরুত্বর জখম ॥ থানায় মামলা

কোতয়ালীর পল্লীতে যৌতুকের জন্য অমানবিক নির্যাতনের পড় গৃহবধু তার স্বজনরা গুরুত্বর জখম ॥ থানায় মামলা

মোঃ মঈন উদ্দীন চিশতী, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুর জেলার কোতয়ালীর পল্লীতে যৌতুকের টাকার জন্য অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে গৃহবধু শাবনুর বেগম, তার মা ও দাদীকে গুরুত্বর জখম করেছে যৌতুকলোভী স্বামী মাহাফিজুর ও তার স্বজনেরা। কোলের শিশু সন্তানসহ শাবনুরকে এক কাপড়ে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছেন তারা।

এ সময় স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ২ মার্চ ২০২০ শাবনুরের বাবা মোঃ আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে স্বামী মাহাফিজুর রহমানসহ ৬ জনকে আসামী করে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ৮ নং শংকরপুর ইউপির পাঁচকুড় (কারীপাড়া) গ্রামের মোসলেমউদ্দীনের পুত্র মোঃ মাহাফিজুর রহমানের সাথে সদরের নারায়নপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের কন্য শাবনুর বেগমের বিবাহ হয়। ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল বিয়ে হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় শাবনুরকে যৌতুকের জন্য চাপ দেয়া হয়। শুধু চাপ নয়, শাবনুরের উপর শারিরিক ও মানসিক নির্যাতনও চালানো হয়।

এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপোষ-মিমাংসাও করা হয়। কিন্তু কোন লাভ হয় না, সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারী বিকালে শাবনুরকে তার বাবার নিকট থেকে ১ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। শাবনুর পরিস্কার জানিয়ে দেয়, তার গরীব বাবা ১ লাখ টাকা কিছুতেই দিতে পারবে না। ফলে স্বামী মাহাফিজুর রহমান আরো তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে। সে এলোপাথারী কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। শাবনুর বাঁচার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে গেলে ধরে ফেলে মাহাফিজুরের মা, বাবা, ভাইসহ পাষন্ড স্বজনেরা। সেখানে শাবনুরের উপর চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন। একপর্যায়ে শাবনুর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পাষন্ডরা তাকে সেখানেও রেহাই দেয়নি। কোমরের উপর লাঠি দিয়ে মারতে মারতে ফুলা কালশিরা ফেলে দেয়। শাবনুরের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে ওই পাষন্ডরা তাকে ছেড়ে দেয়। পরে শাবনুর তার মা নাছিমা বেগমকে মোবাইল করে। বিকালে শাবনুরের মা ও দাদী ঘটনাস্থলে আসলে শাবনুরের স্বামীসহ তার স্বজনেরা লাঠি-সোটা, কাস্তে, কোদালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র সহকারে তাদের উপরও হামলে পড়ে। এ সময় তাদের গুরুত্বর জখম করা হয়। হৈ-হল্লা-চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসলে তারা প্রাণে রক্ষা পায়। সে সময়ই সকলের সামনে শাবনুরের ১ বছরের সন্তানসহ শাবনুরকে এক কাপড়ে বের করে দেয় স্বামী ও স্বজনেরা। আর বলে দেয়-টাকা ছাড়া যেন এদিকে পা না বাড়ায়। পরে জখমী আহত শাবনুর, তার মা এবং তার দাদীকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় গত ২ মার্চ শাবনুরের বাবা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে স্বামী মাহাফিজুর রহমানসহ ৬ জনকে আসামী করে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৫, তারিখ-০২-০৩-২০২০ইং। বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধনী/০৩) আইনের ১১ (গ)/৩০ তৎসহ ১৪৩/ ৩৪১/ ৩২৩/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৫০৬/ ১১৪ পেনাল কোড ১৮৬০ ধারায় মামলা রজু করা হয়। বাদী আব্দুর রশিদের দাবী- অবিলম্বে নরপশু যৌতুকলোভী মাহাফিজুর ও তার স্বজনদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Check Also

ঠাকুরগাঁও জেলার শ্রেষ্ঠ গরু বারাকাত ওজন ১১শ কেজি মূল্য ১৩ লাখ ক্রেতা খুজচ্ছেন খামারি জিল্লুর

গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি,স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ৫ নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের থুমনিয়া (সাহাপাড়া)গ্রামের রিয়াজুল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *