Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / ভালুকায় মহাসড়কে সন্তান প্রসব সরকারি হাসপাতালের গাফিলতি

ভালুকায় মহাসড়কে সন্তান প্রসব সরকারি হাসপাতালের গাফিলতি

নাজমুল ইসলাম,ভালুকা ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় হাসপাতাল থেকে বিদায় দেওয়ার কয়েক মিনিট পরই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসট্যান্ড ওভারব্রিজের নিচে সন্তান প্রসব করলেন রাজিয়া আক্তার(২২) নামের এক গার্মেন্টস কর্মী।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা বাসট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে সন্তান প্রসবের ঘটনাটি ঘটে। রাজিয়া আক্তার ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের আবদুস ছামাদের স্ত্রী।

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামী ছামাদ তার স্ত্রী রাজিয়া আক্তারকে নিয়ে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। ওই সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাম করানোর পরামর্শ দিলে পাশের একটি বেসরকারি ক্লিনিক খোদেজা হালিম থেকে রাজিয়া আক্তারের আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। রিপোর্টসহ স্ত্রীকে নিয়ে পুনরায় ওই হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত জরুরী প্রসূতি সেবা (ইওসি) কেন্দ্রে যান আব্দুস ছামাদ। ওই সময় ইওসিতে কর্তব্যরত মিড ওয়াইফ শামীমা আক্তার রিপোটর্টি দেখে জানিয়ে দেন হাসপাতালে তার স্ত্রীর নরমাল ডেলিভারি সম্ভব নয়। কাজেই প্রসূতিকে ময়মনসিংহ বা অন্য কোথাও নিয়ে জরুরী ভিত্তিতে সিজার করানো দরকার। পরে স্ত্রীকে ময়মনসিংহের নিয়ে যাওয়ার পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপরই সন্তান প্রসব করেন রাজিয়া অাক্তার। এসময় সাধারন জনতার ভিড়ে বাসট্যান্ড এলাকায় জ্যাম সৃষ্টি হয়!

এদিকে খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফোন করে প্রসূতিকে নেওয়ার জন্য ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে বললে, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ‘এম্বুলেন্স পাঠানোর নিয়ম নেই’ জবাব দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়নি। পরে ফোন করে ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের এম্বুলেন্স এনে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় থানা পুলিশ।

কর্তব্যরত নার্স শামীমা আক্তার বলেন, ওই মহিলা স্বাভাবিক প্রসবের অবস্থায় ছিল। কিন্তু আগের বাচ্চা সিজারে হওয়ায় তার স্বাভাবিক প্রসব করানোটা ছিল ঝঁকিপূর্ন। কাজেই ঝুঁকি না নিয়ে সিজার করানোর জন্য রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মডেল থানা পুলিশের এসঅাই মোতালেব ভালুকা সরকারি হাসপাতালের হট লাইন নম্বরে ফোন দিয়ে রোগীকে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে বললে, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয় অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর নিয়ম নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহেলী শারমিন বলেন, ঘটনাটি সত্যি দুঃখজনক। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়ছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপকেক্ষর নির্দেশে ঘটনাটি তদন্ত করে ২৪ঘন্টার মাঝে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় উদ্বোধন

দুর্নীতি দমন কমিশনের ঠাকুরগাঁওয়ের সমন্বিত জেলা কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। রোববার জেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *