Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / নারীদের সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে

নারীদের সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে

Badsah Deoan

Editor

crimereport-24.com

রাজধানীসহ দেশের শহরগুলোতে নারীরা অহরহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। রাস্তাঘাটে চলার সময় বখাটে বা বখাটে স্বভাবের মানুষ নারীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে। কর্মক্ষেত্রেও নারীরা নানাভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। গণপরিবহনেও একই অবস্থা। গায়ে স্পর্শ করা, ধাক্কা দেওয়া, মোবাইল ফোনে ছবি তোলা, অশ্লীল উক্তি বা কটূক্তি করাসহ নানাভাবেই নারীদের হয়রানি করা হয়। ছিনতাইকারী বা দুর্বৃত্তদের হামলারও প্রধান শিকার হয় নারীরাই।

অনেককে যৌন নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়। অ্যাকশন এইড পরিচালিত সাম্প্রতিক সময়ে গবেষণায়ও উঠে এসেছে এমন সব তথ্য। আন্তর্জাতিক সংস্থাটি আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকার নির্বাচিত ১০টি দেশের বেশ কিছু শহরে এই গবেষণা পরিচালনা করে। এতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের শহরে ৫৪.৭ শতাংশ নারীই কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হয়।

৬৫ শতাংশ নারী জানিয়েছে, এসব নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না, বরং দ্বিতীয় দফা হয়রানির শিকার হতে হয়। এসব কারণে নারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নেপাল, নাইজেরিয়া, জর্দান, ব্রাজিল ও জিম্বাবুয়ের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত কঙ্গোর সঙ্গে একই কাতারে, অর্থাৎ ডি গ্রেডে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এই ফলাফল তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষায় ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটা অত্যাবশ্যকও বটে। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা না দেওয়া গেলে এর পরিণতি কী হবে? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর এ ক্ষেত্রে যে ধরনের ভূমিকা থাকা প্রয়োজন ছিল তার যথেষ্ট ঘাটতিই আমরা দেখতে পাই। জরিপে অংশ নেওয়া নারীরাও তেমন অভিযোগই করেছেন।

তাঁরা জানিয়েছেন, পুলিশের সহযোগিতা চাইতে গিয়ে তাঁরা বরং নানা ধরনের অনাকাক্সিক্ষত মন্তব্যই শুনতে পান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের অনেক সদস্যের মনোভাব বা মাইন্ডসেট পরিবর্তন জরুরি। আইনেরও অনেক দুর্বলতা রয়েছে। ফলে নারীদের প্রতি সহিংসতা বা হয়রানি করেও অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।

আর অপরাধের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। বাংলাদেশে এখন তা-ই হচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা বা প্রতিরোধও দিন দিন যেন নিম্নগামী হচ্ছে। চোখের সামনে কোনো মেয়ে বা কোনো নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও অনেকেই চোখ ঘুরিয়ে চলে যায়। সামান্য প্রতিবাদও করতে চায় না। এমন উপেক্ষারই ফল হচ্ছে সমাজের এই অধঃপতন।

দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে, সে জন্য প্রথমেই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সে দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রের। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়াতে হবে। আইনের দুর্বলতাগুলো দূর করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে, সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে।

Check Also

পেঁয়াজের দাম লাগামছাড়া, সমাধান কোথায়?

সম্পাদকীয় হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *