Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / ইউনিফর্ম ছাড়া গ্রেপ্তার আতঙ্ক……

ইউনিফর্ম ছাড়া গ্রেপ্তার আতঙ্ক……

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ইউনিফর্ম ছাড়া এ ধরনের গ্রেপ্তারকে ‘সাংঘাতিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাদা পোশাকের পুলিশ পরিচয়ে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার রীতি অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। যাদের তুলে নেওয়া হয়, পরবর্তী সময়ে তাদের কারো কারো আটকের কথা পুলিশ স্বীকার করে, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে পুরোপুরি অজ্ঞতা প্রকাশ করে। হঠাৎ ‘গুম’ হয়ে যাওয়া সেই দুর্ভাগা ব্যক্তিদের কখনো লাশ পাওয়া যায়, কখনো কোনো চিহ্নই পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ ধরনের গ্রেপ্তার নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে। অপরাধীরাও প্রায়ই এই সুযোগটি কাজে লাগায়। এর আগেও আদালত থেকে এ ধরনের গ্রেপ্তার পদ্ধতি বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেসব নির্দেশনা খুব কমই মানা হচ্ছে। তাই বিষয়টি আবারও সর্বোচ্চ আদালতকে বিচলিত করেছে।

এমনিতেই দেশে গুম-খুনের ঘটনা অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতিটি মানুষ আজ নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ অবস্থায় রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর যতটা তত্পর হওয়া প্রয়োজন ছিল, তারও ঘাটতি রয়েছে। তদুপরি এসব বাহিনীর কোনো কার্যক্রম যদি অপরাধীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে, তা আরো বড় শঙ্কার কারণ হয়ে ওঠে। সাদা পোশাকে কেন কাউকে তুলে নিয়ে যেতে হবে? সাধারণ মানুষ তো সাদা পোশাকের পুলিশ আর সাদা পোশাকের অপরাধীদের পৃথক করতে পারে না। অপরাধীরা পুলিশের কথা বলে তুলে নিয়ে গেলেও তারা বাধা দিতে পারে না। অন্যদিকে পুলিশের ‘গ্রেপ্তার বাণিজ্য’ আরেক ‘ওপেন সিক্রেট’। পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে।

এমনই সব ঘটনার পরিপেক্ষিতে নব্বইয়ের দশকে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিল। তাদের করা রিট মামলার রায়ে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসংক্রান্ত ১৬৭ ধারার বিধান ছয় মাসের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেন। সেই সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে তা মেনে চলতে বলা হয়। ২০০৪ সালে তত্কালীন চারদলীয় জোট সরকার এর বিরুদ্ধে আপিল করে। তখন আপিল বিভাগ লিভ পিটিশন মঞ্জুর করলেও নির্দেশনাগুলো স্থগিত করেননি। ফলে এগুলো মেনে চলা উচিত ছিল, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা করা হয় না। ১৩ বছর পর গত  ১৭, মে ২০১৬, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে আপিল শুনানি সম্পন্ন হয়। এ সময় সর্বোচ্চ আদালত যেসব মন্তব্য করেছেন, তা শুধু প্রাসঙ্গিকই নয়, মানুষের মনের কথাও। আমরা আশা করি, আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকতা দেখাবে এবং আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।

Badsah Deoan

Editor

crimereport-4.com

Check Also

পেঁয়াজের দাম লাগামছাড়া, সমাধান কোথায়?

সম্পাদকীয় হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *