Breaking News
Home / অপরাধ / নেশায় ডুবে পথভ্রষ্ট হচ্ছে যুবসমাজ

নেশায় ডুবে পথভ্রষ্ট হচ্ছে যুবসমাজ

সুজন রাজশাহী প্রতিনিধি:

আমাদের সমাজ নানা রোগে আক্রান্ত। আর যুবসমাজ এ রোগের শিকার। যুবসমাজ আজ পথভ্রষ্ট হয়ে অধঃপতন এবং ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তারা আস্তে আস্তে নেশায় আক্রান্ত হয়ে নিমজ্জিত হচ্ছে জীবনের শেষপ্রান্তে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, মানুষ এখন বাইরে তো নয়ই, ঘরের ভেতরও নিরাপদ নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এক ধরনের সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়ায় শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, সমাজে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণসহ নানা ধরনের অপরাধ। একই সঙ্গে বাড়ছে মাদক সংক্রান্ত ভয়ঙ্কর অপরাধও। বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতো তাহলে পরিস্থিতির এতটা অবনতি হতো না। ঘরের ভেতর তো বটে, স্কুল-কলেজগুলোতেও ঢুকে গেছে সর্বনাশী মাদক। এদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার খেয়াল নেই। অথচ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির পেছনে মাদক কাজ করছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় (১৩-১৯) বৎসরের বয়সের যুব সম্প্রদায় বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েছে। জনগোষ্ঠীর অধিক মাত্রার কারণে প্রতিনিয়ত তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্ত ব্যক্তিদেরকেই সংক্ষেপে মাদকাসক্ত বলা হয়। ‘মাদকাসক্ত’ শব্দটি আসলে নিন্দার্থেই ব্যবহৃত হয়। মাদক জাতীয় ওষুধ সেবনকারীরা সহজেই মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এবং নিজের ও সমাজের ক্ষতিসাধন করে। সাম্প্রতিক সময়ে সবার মুখেই একটি কথা বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে আর তা হলো মরণ নেশা ইয়াবা। প্রাথমিকভাবে কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে অনেকে ইয়াবা ও ফেনসিডিল সেবন করে থাকে। কিন্তু পরে কৌতূহল থেকে পরবির্ততে-এ ইয়াবা ও ফেনসিডিল গ্রাস করে নেয় বিবেক, বুদ্ধি ও জীবন। মরণ নেশা ইয়াবা স্বাস্থ্যের জন্য যতটা ক্ষতিকর সমাজের জন্যও ঠিক ততটাই ভয়াবহ। ইয়াবা একটি থাই শব্দ। এর অর্থ হলো ক্রেজি মেডিসিন বাংলায় আকর্ষণীয় বা পাগলা ওষুধ। অর্থ শুনেই বোঝা যাচ্ছে এটি মানুষের বিবেক-বুদ্ধি সব লোপ করে দিয়ে তাকে পাগলের মতো আচরণ করতে উদ্ধুব্ধ করে। বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশের ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষিত বেকার তথা তরুণ যুবসমাজের একটি বড় অংশ এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। কিশোর-কিশোরীরাও এ আসক্তির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে।
মনোচিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীরা মাদকের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেÑএ থেকে পরিত্রাণ পেতে সচেতনতা সৃষ্টিতে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাদকসেবী যারা সাধারণত তাদের চিন্তা ও আচরণের হঠাৎ পরিবর্তন দেখা যায়। মাদকসেবীদের চিন্তা ভাবনা হয়ে ওঠে বিক্ষিপ্ত। কোনো কিছুতেই বেশিক্ষণ মনোযোগ করতে পারে না। মেজাজ খিটখিটে হয়ে শান্ত সুবোধ ছেলে বা মেয়েটি হঠাৎই পরিবারের অবাধ্য হয়ে ওঠে। মাদকসেবীদের জীবনযাত্রা একটু খেয়াল করলে দেখা যায়, তারা কম ঘুমাচ্ছে, সারা রাত জেগে থাকে আর পরদিন দুপুর ২টা-৩টা পর্যন্ত ঘুমায়। খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি ভাব দেখা দেয়া। মাদকসেবীরা কারণে-অকারণে মিথ্যা কথা বলে। তারা প্রয়োজনের তুলনায় বাবা-মার কাছে বারবার বেশি টাকা চায়, টাকা না পেলে রাগারাগি করে। এছাড়াও মাদকসেবীদের নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়, পড়ালেখার ইচ্ছা ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং চাকরির ক্ষেত্রেও তাদের বারবার সমস্যা হয়। মাদক গ্রহণের ফলে তাদের নতুন নতুন বন্ধু-বান্ধবী তৈরি হয় এবং পুরনোদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে থাকে। ঘরের ভেতর মাদক গ্রহণের বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। বাসার জিনিসপত্র, টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন চুরি হতে থাকে। অনেক সময় বিনা কারণে খুব উৎফুল্ল বা খুব বিষণ্ন ভাব দেখা যায় ও অসংলগ্ন কথা বলা বেড়ে যায় তাদের। স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে সবসময় ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকে, স্বাভাবিক যৌনজীবন ব্যাহত হয়। সবসময় উৎকণ্ঠা বা অহেতুক ভীতির মধ্যে থাকে।
মাদকাসক্তির চিকিৎসার বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। মাদকাসক্তির ধরন নির্ণয় করা হয়। শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা করা হয়। মাদকমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন স্বীকৃত ওষুধ নির্দিষ্ট নিয়মে মনোচিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করা লাগতে পারে। পরের ধাপে তাকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মাদকমুক্ত থাকার প্রেরণা দেয়া হয়। আবার যাতে মাদক গ্রহণ না করে সে বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ দেয়া হয়। ফের আসক্ত হওয়ার জন্য যেসব ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ রয়েছে সেগুলো থেকে দূরে থাকার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সাহায্য করা হয়। নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডেও উৎসাহিত করা হয় চিকিৎসাধীন আসক্তজনকে। আসক্ত হওয়ার আগের যোগ্যতা ও গুণাবলী ফিরিয়ে দেয়ার জন্য পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়। মাদকসক্তি চিকিৎসার জন্য ধাপগুলো বেশ দীর্ঘমেয়াদি। তাই ধৈর্য ধরে চিকিৎসা করাতে হয়। অপরিপূর্ণ চিকিৎসার কারণে আবার আসক্তি (রিল্যান্স) হতে পারে। ফ্যামিলি কাউন্সেলিংও চিকিৎসার একটি জরুরি ধাপ।

করণীয়: পারিবারিক পরিবেশ হতে হবে ধূমপানমুক্ত। সন্তানদের কার্যকলাপ এবং সঙ্গীদের ব্যাপারে খবর রাখতে হবে। সন্তানরা যেসব জায়গায় সবসময় যাওয়া-আসা করে সে জায়গাগুলো সম্পর্কে জানতে হবে, যাতে করে তারাই নিজে থেকে তাদের বন্ধু-বান্ধব ও কার্যাবলী সম্পর্কে আলোচনা করে। পরিবারের সব সদস্যই ড্রাগের ক্ষতিকারক বিষয়গুলো সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন। ধৈর্য ধরে সন্তানদের সব কথা শোনার জন্য অভিভাবকরা নিজেদের প্রস্তুত করবেন। সন্তানদের মঙ্গলের জন্য পরিবারের সদস্যরা যথেষ্ট সময় দেবেন। সন্তানদের সামাজিক, মানসিক, পড়ালেখা সংক্রান্ত অর্থনৈতিক চাহিদাগুলো যথাসম্ভব মেটাতে হবে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত দিয়ে তাদের প্রত্যাশা বাড়তে দেয়া যাবে না। পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন, প্রায়ই তারা সবাই মিলে আনন্দদায়ক কিছু কার্যকলাপের পরিকল্পনা করবেন এবং পরিবারের সবাই মিলে সুন্দর সময় কাটাবেন।
অতএব উপরোক্ত পর্যালোচনায় এ কথা নিঃসঙ্কোচে বলা যায় যে, একটি জাতির জন্যে মাদকাসক্তি যে আণবিক বোমার চেয়েও মারাত্মক তা চিন্তাশীল ব্যক্তিমাত্রই স্বীকার করবেন। বোমার আঘাতে একটি ক্ষুদ্র জনপদ নষ্ট হয়, কিন্তু মাদকাসক্তি একটি বিশাল জাতিকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়। তাই যুবসমাজ তথা গোটা জাতিকে মাদকাসক্তির মারাত্মক পরিণাম থেকে রক্ষা

Check Also

নওগাঁর পোরশায় লকডাউনের পঞ্চম দিনে কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন

নাহিদ পোরশা, (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর পোরশায় লকডাউনের পঞ্চম দিনে জন সচেতনা বাড়াতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *