Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / নিউজ আপডেট / জুরাইনে অটোরিক্শা থেকে চাদাবাজী

জুরাইনে অটোরিক্শা থেকে চাদাবাজী

জুরাইনের চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে বিক্রম পু্র প্লাজা পর্যন্ত রুটে চলাচলরত অটোরিক্সা থেকে চলছে অবাধ চাঁদাবাজি। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের প্রশ্রয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি চলে এই রুটে। নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিতে না পারলে চালকদের লাঞ্ছিত, মারধর সহ রাস্তায় গাড়ি চালাতে বাধা সৃষ্টি করে চাঁদাবাজরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকালে এবং বিকেলে হলুদ পোশাক পরিহিত লাইনম্যান প্রতিটি অটোরিক্সা হতে ৩০ টাকা হতে ১২০ টাকা পর্যন্ত টাকা আদায় করে। এসকল টাকা প্রকাশ্যেই তুলছে লাইনম্যানরা। বিক্রমপুর প্লাজার সামনে প্রতিনিয়ত পুলিশের অবস্থান থাকলেও রহস্যজনক কারণে এ নিয়ে মাথা ঘামান না তারা। অভিযোগ পাওয়া যায় চাঁদাবাজি করে আদায় করা টাকার ভাগ পৌছে যায় অটো নিয়ন্ত্রণকারী চাঁদাবাজ থেকে শুরু করে ট্রাফিক পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের পর্যন্ত।

শুধু তাই নয়, প্রতিটি অটোরিক্সার গায়ে লাগানো থাকে বিশেষ টোকেন। এসকল টোকেন প্রতিমাসে পরিবর্তন করতে চালকদের গুনতে হয় ৩০০ টাকা। রুটে নতুন অটো নামতে সংঘবদ্ধ এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে দিতে হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে পুরো রুটে প্রায় ১০০ অটো নিয়মিত চলাচল করে থাকে। আর এসকল অটো হতে দিনে দিনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

ভুক্তভোগী একজন চালক রবিউল বলেন, আমি আগে এই রুটে অটো চালাতাম। প্রায় ১৫ হাজার টাকা দিয়ে রুটের টোকেন নিতে হয়েছিলো আরো ১ বছর আগে। কিছুদিন চালানোর পর দেখলাম দিন প্রতি ৬০ আর মাস শেষে ৩০০ টাকা দিয়ে নিজের খুব অল্পই সঞ্চিত থাকে। গাড়ির মেরামত আর আনুসাঙ্গিক খরচে নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা। প্রতিমাসে ২১০০ টাকা যদি চাঁদাবাজেরই পকেটে যায় তাহলে আমাদের থাকে কি? বাধ্য হয়ে এখন অন্যরুটে অটো চালাই। কেনা টোকেন ১৫ হাজার টাকায় আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।

চালক ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, এ রুটে দিনের টাকা সংগ্রহ করে লাইনম্যান মনির। সকাল বিকাল ৬০ টাকা করে প্রতিটি অটো থেকে চাঁদা নেয় সে। আর এর ভাগ চলে যায় হোতা সোহরাব ও মোহব্বতের কাছে। মূলত ওয়াসিম ও আজিজুল স্থানীয় প্রভাব প্রতিপত্তি ও ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এই রুটে চাঁদাবাজি করে থাকে। রুটের অটোর পারমিশন দেয়া, টোকেন প্রদান সবই করে থাকে তারা। অভিযোগ রয়েছে দিন প্রতি ২০০০ টাকা চলে যায় টিআই এর নিকট। তাদের প্রশ্রয়েই মূলত প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করার সুযোগ পায় পুরো চক্রটি।

স্থানীয় দোকানদার লাভলু মিয়া বলেন, জুরাইনে প্রতিদিনই চাঁদার জন্য উৎপাত করে লাইনম্যান মনির। চাঁদা না দিলে চালকদের গালিগালাজ, মারধর সহ গাড়ির গ্লাসও ভেঙ্গে দিতে দেখেছি। প্রকাশ্যে এসব কর্মকান্ড দেখলেও পুলিশ নির্বিকার থাকে প্রতিনিয়ত। তারা আশ্রয় না দিলে কি আর এমন কাজ সম্ভব হতো নাকি?

স্থানীয়রা বলছেন, চাঁদাবাজ আর সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত অটোর দৌরাত্ম্যে জুরাইনের মোড়ে যানজট লেগেই থাকে। বিপুল পরিমাণ অবৈধ আয় রোধ করা গেলে মুক্তি পেতো দরিদ্র অটো চালক এবং সড়কে চলাচলরত যাত্রীরা। ওয়ারী জোনের নবাগত উপ- পুলিশ কমিশনার ব্যাপারটি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

Check Also

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে……..

।। নিজস্ব প্রতিবেদক।। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে চতুর্থ ধাপে ১৪ ই ফেব্রুয়ারী নরসিংদী ও মাধবদী পৌরসভা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *