Breaking News
Home / অপরাধ / একই শিক্ষকের দুই মাদ্রাসায় চাকুরী পটুয়াখালীতে বিভিন্ন অনিয়মে জর্জরিত মাদারবুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এমপিও ভুক্তির তালিকায়

একই শিক্ষকের দুই মাদ্রাসায় চাকুরী পটুয়াখালীতে বিভিন্ন অনিয়মে জর্জরিত মাদারবুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এমপিও ভুক্তির তালিকায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ঃ

পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ শহিদুল ইসলাম একই সাথে হাজীখালী আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরী করেন এবং সরকারি কোষাগার থেকে বেতন উত্তোলন করেন। এছাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে এমপিও ভুক্তির তালিকায় আসারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় (২৯অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১২ টায়), ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র। ২০০০ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এমপিও ভুক্তির জন্য নেই তেমন অবকাঠামো, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। ২০ বছর পর যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয় এমন সময় উঠে আসে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অনিয়মের দূর্নীতির কথা। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করনের জন্য যে নীতিমালা মালার প্রয়োজন এই প্রতিষ্ঠানে নেই তার বেশির ভাগ নীতি মালার ব্যাবহার। অসত্য তথ্য প্রদান করে সুপার শহিদুল ইসলাম মাদারবুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিও ভুক্তির তালিকায় নিয়ে আসেন। এখন শুরু করেছেন নিয়োগ বানিজ্যের খেলা। স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন সিকদার জানায়, সুপার বর্তমানে দুইটি মাদ্রাসায় চাকুরী করেন। তিনি তার খেয়াল খুশি মত মাদ্রাসায় আসে যায়। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই চালায় শিক্ষা কার্যক্রম। চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী না থাকায় বেশীরভাগ সময়েই তোলা হয় না জাতীয় পতাকা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৫ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩জন শিক্ষক, ৩ জন দপ্তরি থাকার কথা কিন্তু উপস্থিত পাওয়া যায়নি কাউকে। মাদ্রাসায় মোট ৩৭৫জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত পাওয়া যায় মাত্র ২০জনকে। হাজিরা খাতায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিত জানতে চাইলে তিনি বলেন খাতা ঢাকা ফেলে এসেছি, আবার কখনো বলে হারানো গিয়াছে। অপরদিকে উপস্থিত শিক্ষর্থীরা জানান আজ ২৯ (অক্টোবর) তারিখে তাদের হাজিরা খাতায় নেয়া হয়েছে কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি কোন হাজিরা খাতা। দেখাতে চায়নি শিক্ষকদের হাজিরা খাতাও। আর সুপার ক্ষমতার বলে নিজের পরিবারের ৩ জনকে এই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মিজানুর রহমান নামে একজনকে কখনো বলে শিক্ষক আবার কখনো বলে দপ্তরি। কিভাবে এই রকম একটি প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তি পেল তা জনমনে প্রশ্ন?

এবিষয়ে মাদ্রাসার মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নিজেও জানি না কোন পদে আছি।

স্থানীয় জসিম নামে একযুবক বলেন আমরা এযাবৎ তিন থেকে চার জন শিক্ষককে পাঠদান করতে দেখেছি তবে তারা নিয়মিত কিনা তা আমরা সঠিক জানিনা।

এবিষয়ে শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি দুই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার কথা স্বীকার করেন এবং আরও বলেন আগামী মাসে হাজীখালী আলিম মাদ্রাসার চাকুরী ছেরে দিব। মাদ্রাসার হাজিরা খাতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয় এড়িয়ে যান।

এ বিষয় জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহামুদ জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি কেউ কোন তথ্য এমপিও ভুক্ত হওয়ার বিষয় গোপন করে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার সঠিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন একজন শিক্ষক একই সময় দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন না আর যদি কেউ করে থাকেন তাহলে তার বিরূদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যাবস্থাকে সর্বচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তিনি ইতিমধ্যে দেশের দুই হাজার সাতশত ত্রিশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও ভুক্ত করেছেন। মাদারবুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল কোন তথ্য গোপন করে এমপিও ভুক্তিতে আসে এবং যদি কোন অনিয়ম করে থাকে তবে আমরা তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যাবস্থা নিবো এবং শিক্ষা মনন্ত্রানালয় তার বিরূদ্ধে জানাবো।

Check Also

৩৪ বোতল ফেন্সিডিল ও ১ মোটরসাইকেল উদ্ধার।

মোঃ আব্দুল্লাহ আল মমিন(পাটগ্রাম),লালমনিরহাট বিশেষ অভিযানে হাতীবান্ধা হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক ৩৪ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *