Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / কক্ষের দরজা বন্ধ করে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা পেটালেন বিচারপ্রার্থীদের

কক্ষের দরজা বন্ধ করে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা পেটালেন বিচারপ্রার্থীদের

মেহেদী হাসান রাজু

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে জমি সংক্রান্ত শালিস চলাকালে বিচারপ্রার্থী সাবেক সেনা ল্যান্স কর্পোর‌্যাল রফিকুল সহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে মেরে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসান কবির এপ্লবের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বেলা ১২টার দিকে ঐ ইউনিয়ন পরিষদে আদালতের এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। তারপর উভয়পক্ষের বিচারপ্রার্থীরা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা বা মিডিয়াতে কিছু না বলার জন্য হুমকির মধ্যে রয়েছেন রফিকুলের পরিবার, নিরাপত্তাও চেয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আওয়ালগাড়ী মীরপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম, তার ভাই আনোয়ার ও আনিসুরের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী চাচাতো ভাই দুদু মিয়া, ফিরোজ হোসেনের পরিবারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলছিল। তাদের বিরোধ শালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করে। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উভয়পক্ষকে গত ৪ ডিসেম্বর বুধবারে ডাকা হয়। ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীগ নেতার উপস্থিতিতে শালিস চলাকালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের হাতাহাতির সময় ফিরোজের হাতে গুরুতর আঘাত পায়। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত না করে শালিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে চেয়ারম্যান লাঠি দিয়ে রফিকুলসহ তার পরিবারের ৫জনকে মেরে আহত করে। আহত অবস্থায় রফিকুল ও তার ভাইয়েরা আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন এবং ফিরোজ ও তার পরিবারের লোকজন জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স কর্পোর‌্যাল রফিকুল ইসলাম বলেন, বিচারের দিন চেয়ারম্যান শালিসের ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজেই লাঠি দ্বারা আমাকে ও আমার ভাইদেরকে বেধড়ক মারধর করে এবং আমরা হাসপাতালে ভর্তি আছি সেখানেও আমাদেরকে তাঁর লোকজন বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে।

রফিকুলের স্ত্রী রুমা পারভীন, আনোয়ারের স্ত্রী ডেইজী আক্তারসহ পরিবারের সদস্যরা বলেন, সরকারি দলের প্রভাবশালী এপ্লব চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বৈরাচারি কায়দায় অন্যায় ভাবে মারধর করেছে এবং আমাদের চেয়ারম্যানের লোকজন বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে যে, থানা বা মিডিয়াতে কোন কিছু জানালে পুরো পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলবে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এরকম অন্যায়কারী চেয়ারম্যানের বিচার করে তার পদত্যাগ চাই।

আহত ফিরোজ হোসেন ও দুদু মিয়া বলেন, জমি-জমার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে শালিস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আমরা জমির বিরোধ মিটে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

এলাকাবাসী মনতাজ, আবু কালাম, বেনজীর আহমেদসহ অনেকে বলেন, আমরা শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এপ্লব, রফিকুল মিলিটারি সহ তার ভাইদের মেরেছে। তাদের বাড়িতে দেখতে গিয়েছিলাম, তারা হাসপাতালে ভর্তি ছিল, এজন্য দেখা হয়নি। চেয়ারম্যান যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে এর সুষ্ঠ বিচার হতে হবে।

এ ব্যাপারে বিচারপ্রার্থীদের এলাকার ইউপি সদস্য সিদ্দিক মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণে বা অধীনস্থে থাকি। তাই চেয়ারম্যান দরবারে থাকলে আমাদের তো বলার কিছু থাকে না। অভিযুক্ত জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও রুকিন্দীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান কবীর এপ্লব বলেন, বিচারের দিন দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি লাগে। তাদের শান্ত করার জন্য উভয়পক্ষকেই দু-চারটা বারি মারা হয়েছে, আমি মিথ্যা কথা বলিনা।

আক্কেলপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ বলেন, এখনো কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম সংবাদ বাংলাদেশকে বলেন, গ্রাম আদালতের বিচারে কোন বিধান নেই।

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে অগ্নিকান্ডে ১টি বাড়ি ভস্মীভূত

গীতি গমন চন্দ্র রায় গীতি, স্টাফ রিপোর্টার: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ গতকাল রাত ১০/১১ ঘটিকার সময় হঠাৎ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *