Breaking News
Home / মফস্বল / তুহিনকে খুনের পর ছুরির গায়ে প্রতিপক্ষের নাম লেখে বাবা-চাচা

তুহিনকে খুনের পর ছুরির গায়ে প্রতিপক্ষের নাম লেখে বাবা-চাচা

অনলাইন ডেস্ক

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে কেজাউড়া গ্রামে নৃসংশভাবে শিশু তুহিন মিয়াকে হত্যার পর তার পেটে দুটি ছুরি ঢুকিয়ে দেয় বাবা ও চাচা। তারা দুটি ছুরির একটির গায়ে লিখে দেয় সুলেমান, অন্যটিতে সালাতুল।

পুলিশ খুনের ঘটনার প্রাথমিক তথ্য উদঘাটন করে জানতে পারে, নিহত শিশুর খুনি বাবা ও চাচারা গ্রামের তাদের প্রতিপক্ষ ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে ছুরিতে নাম লিখেছিল।

পুলিশ ছুরি দুটি ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছুরিতে যে দুজনের নাম লেখা ছিল, তারা স্থানীয়ভাবে নিহত শিশুর বাবা আব্দুল বাসির ও তার ভাইদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল বাসিরদের সঙ্গে সুলেমান, সালাতুল ও আনোয়ার হোসেন মেম্বারদের জায়গা, বিলসহ নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। দুপক্ষের অনেক মামলা ছিল বিচারাধীন। এ নিয়ে এর আগেও খুনের ঘটনা ঘটে। একটি খুনের মামলায় নিহত তুহিনের বাবাও আসামি। গ্রামের অনেকে দু’পক্ষের মামলা, হামলার কারণে তাদের অনেকটা এড়িয়ে চলতেন।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরিতে যে দুজনের নাম লেখা ছিল তাদের মধ্যে সালাতুল কয়েক বছর ধরেই প্যারলাইসিস রোগে আক্রান্ত। হাঁটাচলা করতে পারেন না। বিছানায় শুয়ে অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটছে তার। আর সুলেমান বয়সের ভারে অনেকটাই ন্যুজ। সুলেমান ও সালাতুল দুজনেই এর আগে আব্দুল বাসিরদের দায়ের করা খুনের মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন।

সালাতুল মিয়া বলেন, গ্রামের নানা বিষয় নিয়ে জেদ করে আমাদের বারবার ফাঁসিয়েছে আব্দুল মোছাব্বির, আব্দুল বাসিররা। আমি দীর্ঘ দিন ধরেই প্যারালাইসিসে আক্রান্ত, হাঁটতে পারি না। শুনলাম ছুরিতে নাকি আমার নাম লেখা। হয়ত এ ঘটনায়ও আমাকে ফাঁসাতে চেয়েছিল। এর আগেও ২০১৫ সালে আব্দুল বাসিরের ভাতিজা বউ নিলুফার লাশ রাস্তায় পাওয়া যায়। সে মামলায় আমাদের আসামি করেছিল তারা।

পুলিশ জানায়, ২০০৮ সালের জবর আলী হত্যা মামলা, ২০১৫ সালের নিলুফার হত্যা মামলায় আসামি ছিল আনোয়ার, সালাতুল ও সুলেমানের আত্মীয়-স্বজনরা। অন্যদিকে ২০০১ সালের মুজিব হত্যা মামলায় আসামি ছিল নিহত তুহিনের বাবা আব্দুল বাসিরসহ তার ভাই, ভাতিজারা। প্রায় বিশ বছরে দুপক্ষে অনেকবার মারামারি ও মামলার ঘটনা ঘটেছে।

কেজাউড়া গ্রামের আজিজুল ইসলাম বলেন, খুনিরা নির্মমভাবে তুহিনকে হত্যার মাধ্যমে আমাদের গ্রামকে কলংকিত করেছে। সবাই বলে আমাদের গ্রামের মানুষ হিংস্র, অমানুষ।

আরিফুল রহমান নামের আরেক গ্রামবাসী বলেন, গ্রামের দুপক্ষই মামলাবাজ, এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েলে লিপ্ত থাকত, আমরা সাধারণ মানুষ তাদের কারণে ভয়ে থাকতাম।

এদিকে গ্রামবাসী বলছেন, শিশু তুহিনের হত্যার মতো আগের তিনটি হত্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পুলিশ যদি সঠিক তদন্ত করে, তুহিন হত্যার মতো অনেক ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। কারণ এসব মামলায় গ্রামের অনেক নিরীহ মানুষ মামলা, জেল খেটে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন বলেন, প্রতিটি ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত, পূর্বের ঘটনার সঠিক তদন্ত হলে এমন নৃশংস হত্যা ঘটত না।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, আব্দুল বাসিরের সঙ্গে গ্রামের একটি পক্ষের আধিপত্য বিস্তার, মামলা নিয়ে বিরোধ ছিল। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই মূলত হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় তুহিনের বাবা ও চাচারা। তাদের তিনজনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, তাদের কাছ থেকে হয়ত আরো তথ্য আমরা জানতে পারব। আর উদ্ধার কার ছুরি দুটি ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য ঢাকায় পাঠান হয়েছে।

Check Also

ডিমলায় পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকার অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ নীলফামারীর ডিমলা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে ঝুনাগাছ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *