Breaking News
Home / রাজনীতি / টাকার বস্তা নিয়ে সিঙ্গাপুরে যান ‘ক্যাসিনো সম্রাট’

টাকার বস্তা নিয়ে সিঙ্গাপুরে যান ‘ক্যাসিনো সম্রাট’

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। নগরীতে ক্যাসিনো ব্যবসায় খালেদের ভাগীদার আরও কয়েকজন যুবলীগ নেতা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। এদের একজন খালেদের গুরু হিসেবে পরিচিত ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। তিনি ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে জুয়াড়িদের কাছে পরিচিত।

সম্রাটের নেশা ও ‘পেশা’ জুয়া খেলা। তিনি একজন পেশাদার জুয়াড়ি। আলোচিত এই সম্রাট টাকার বস্তা নিয়ে জুয়া খেলতে যান সিঙ্গাপুরে। মাসে অন্তত ১০ দিন তিনি সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলেন। এটি তার নেশা।

সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন জুয়াড়িরা। কিন্তু সেখানেও সম্রাট ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। প্রথমসারির জুয়াড়ি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার বিশেষ ব্যবস্থাও আছে।

এয়ারপোর্ট থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনো পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিলাসবহুল গাড়ি ‘লিমুজিন’যোগে। সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলতে গেলে সম্রাটের নিয়মিত সঙ্গী হন যুবলীগ দক্ষিণের নেতা আরমানুল হক আরমান, মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার, সম্রাটের ভাই বাদল ও জুয়াড়ি খোরশেদ আলম।

এদের মধ্যে সাঈদ কমিশনারের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি ১০ বছর আগে ঢাকায় গাড়ির তেল চুরির ব্যবসা করতেন। এখন তিনি এলাকায় যান হেলিকপ্টারে চড়ে। এমপি হতে চান আগামী দিনে। যার তোড়জোড় শুরু হয়েছে এখন থেকে। দোয়া চেয়ে এলাকায় লাগানো হচ্ছে পোস্টার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের অফিস রাজধানীর কাকরাইলে রাজমণি সিনেমা হলের উল্টোপাশে। সেখানেও গভীর রাত পর্যন্ত ভিআইপি জুয়া খেলা চলে। প্রতিদিনই ঢাকার একাধিক বড় জুয়াড়িকে সেখানে জুয়া খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়।

কিন্তু সম্রাটের অফিসে খেলার নিয়ম ভিন্ন। সেখান থেকে জিতে আসা যাবে না। কোনো জুয়াড়ি জিতলেও তার টাকা জোরপূর্বক রেখে দেয়া হয়। নিপীড়নমূলক এই জুয়া খেলার পদ্ধতিকে জুয়াড়িরা বলেন ‘চুঙ্গি ফিট’। অনেকে এটাকে ‘অল ইন’ও বলেন। জুয়াজগতে ‘অল ইন’ শব্দটি খুবই পরিচিত।

অল ইন মানে একেবারেই সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া। সংসারের ঘটিবাটি বিক্রি করে একেবারেই নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার মতোই জুয়াড়িদের অল ইন হওয়া।

এদিকে খালেদের গ্রেফতারের পর গ্রেফতার আতঙ্কে সময় পার করছেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। রাজধানীতে একাধিক অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার রাতে গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনি মার্কেটসংলগ্ন একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র্যা ব। স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ ক্যাসিনোর নেতৃত্বে আছেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট। এটি ছাড়াও ঢাকার কয়েকটি ক্যাসিনো থেকে চাঁদার ভাগ আসে তার কাছে।

সূত্র বলছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ইতিমধ্যে জুয়ার আস্তানাগুলোয় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকার জুয়াজগতের অঘোষিত সম্রাট হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট পলাতক।

তার অন্যতম প্রধান সহযোগী আরেক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। ক্যাসিনো ব্যবসার প্রধান ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ক্ষমতাধর যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম ও আরমানও গা ঢাকা দিয়েছেন।

১৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে ক্যাসিনোগুলোয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপরতা শুরু করে। সম্রাটের কাকরাইলের আস্তানায় ডিবি ও র্যা ব সদস্যরা তল্লাশি শুরু করলে ক্যাসিনো জগতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একে একে জুয়ার আস্তানাগুলো বন্ধ হতে শুরু করে।

ক্যাসিনো খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পর হাজারখানেক নেতাকর্মী নিয়ে কাকরাইলে যুবলীগের কার্যালয়ে অবস্থান নেন মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট। বুধবার শেষ রাতেও রাজধানীর কাকরাইলে যুবলীগ কার্যালয়ে কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান করেন তিনি। মূলত গ্রেফতার আতঙ্ক থেকে নেতাকর্মী বেষ্টিত থাকছেন সম্রাট। যদিও তিনি আতঙ্কে আছেন বলে স্বীকার করছেন না।

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার পর যুবলীগের কাকরাইল কার্যালয়ে উপস্থিত হন বিভিন্ন ইউনিটের সহস্রাধিক নেতাকর্মী। তাদের ধারণা, চলমান অভিযানে গ্রেফতার হতে পারেন সম্রাট। সে জন্য তারা কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন। আতঙ্ক থেকেই নেতাকর্মী বেষ্টিত থাকছেন সম্রাট। তিনি ঢাকার অন্তত একটি ক্যাসিনোর মালিক, সেই সঙ্গে একাধিক ক্যাসিনোর টাকা ভাগাভাগির সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে যুবলীগ থেকে শোকজও করা হয়েছে।

রাত ৩টার পরও কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণ জানতে চাইলে সম্রাট গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার কাছে নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই আসে। রাত ১টা-২টা পর্যন্ত থাকে। এটি নতুন কিছু নয়।’

অন্যদিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি নেতাকর্মীর উপস্থিতি গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে কিনা জানতে চাইলে সম্রাট বলেন, ‘আমি আতঙ্কিত নই। আইনত যদি কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়, তা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারে।’

রাতে কাকরাইল এলাকায় দায়িত্বরত রমনা থানার এসআই রঞ্জু মিয়া বলেন, ‘রাত ২টার দিকে কার্যালয়ের দুপাশে নেতাকর্মীদের দেখে এসেছি। তবে কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না।’

Check Also

নরসিংদী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা এগিয়ে, মাধবদী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা মার্কার জয়..

মোঃ রফিকুল ইসলামস্টাফ রিপোর্টারনরসিংদী। নরসিংদী পৌরসভার নির্বাচন শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে ৪ কেন্দ্র স্থগিত করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *