Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / ইসলামে পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব

ইসলামে পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব

এইচ এম কামরুজ্জামান সাকী

ইসলামে মানবজীবনের পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব উল্লেখ করে কোরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, “আমি প্রতিটি বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি”। (সূরা নাবা আয়াত ৪৯) পারিবারিক বন্ধন গঠনে রাসূল (সাঃ) সর্বদা সাহাবিদের তাগিদ দিতেন। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে তার পরিবারের নিকট শ্রেষ্ঠ। আমি আমার পরিবারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।”

পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদীস থেকে পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব যে কতোটা জরুরি তা আমাদের বুঝে আসে। সন্তান মাতা-পিতার কাছে আমানত। সন্তানের হৃদয় নকশা- ইমেজমুক্ত এক সরল-স্বচ্ছ মুক্তা, যা যেকোনো নকশা- ইমেজ ধারণ করতে প্রস্তুত। তাকে কাদা মাটির মতো যে দিকেই হেলানো হবে, সে সে দিকেই ঝুঁকে পড়বে। যা কিছু উত্তম ও ভালো তা যদি তাকে শেখানো হয়, তাকে যদি এগুলোর প্রতি অভ্যস্ত করে নেয়া হয় তবে সেভাবেই সে বড় হবে। সুতরাং একটি পরিবারই পারে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ জাতিকে উপহার দিতে।

আমরা পরিবার বলতে প্রথমত পিতা – মাতা ও তাদের সন্তান-সন্ততিদের কেন্দ্র করে হতে পারে, দ্বিতীয়ত একসঙ্গে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজন সমবায়ে একটি প্রসারিত পরিবারও হতে পারে। তৃতীয় ধরনের পরিবার হলো একটি বৃহৎ সংসার, যেখানে অন্যান্য আত্মীয় ও ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কিংবা তাদের ছাড়া অনাত্মীয়রাও যুক্ত হয়। পরিবার প্রায়শ সন্তানসহ বা সন্তানবিহীন এক বা একাধিক দম্পতির ছোট সংসার নিয়ে গঠিত হয়। এই পরিবারের প্রথার প্রচলন হয়েছিল হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ) ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বৈবাহিক বন্ধন সৃষ্টি করে। এজন্যই স্বামী এবং স্ত্রী তারাই পরিবারের মূখ্য ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে বিবাহের গুরুত্ব অবশ্যই অপরিসীম।

স্বামী স্ত্রী ভালোবাসা সমাজ শুদ্ধ ও মনোমুগ্ধকর করে তুলে। রাসূল (সাঃ) সাহাবিদের তাদের স্ত্রীদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করার উপদেশ দিতেন৷ এক্ষেত্রে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, “তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। আর যদি তাকে তোমার অপছন্দও হয়, তবু তুমি যা অপছন্দ করছ হয়তো আল্লাহ তাতে সীমাহীন কল্যাণ দিয়ে দেবেন।” (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৯)

ইসলামে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের প্রতি উভয়ের হক রয়েছে। জানতে হবে একে অপরের প্রতি কি হক রয়েছে। তাদের ঝগড়া কোন পক্ষের জন্য শুভকর নয়। একে অপরকে ছাড় না দিলে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং দাম্পত্য জীবন ও সংসার জীবনে অশান্তি বিরাজ করে। এভাবে চলতে থাকলে একটা সমাজের মাঝেও অশান্তির সৃষ্টি করে, কারণ প্রতিটা পরিবারই ঐ সমাজের অংশ। সুতরাং স্বামী এবং স্ত্রী পরিবারে একে অপরের সম্পূরক। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন। “তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পোশাক। তোমরা তাদের পোশাক।” (সূরা বাকারা আয়াত ১৮৭)

আদর্শ পরিবার গঠনে রাসূল (সাঃ) কেবলমাত্র তার উম্মতের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ নমুনা।আমরা তার আদর্শ গ্রহণ করলে পারিবারিক বন্ধন অটুট হবে। আর আদর্শ পরিবার হলে ছেলে মেয়ে আদর্শবান হবে। কারণ মা – বাবা এবং পরিবারই শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সুতরাং সুখী পরিবার ও আদর্শ সমাজ গঠনে ইসলামের জ্ঞান রাখতে হবে এবং কোরআন ও রাসূল (সাঃ) এর পরিবার নীতির আলোকে পরিবার গড়তে হবে।

এক্ষেত্রে অবশ্যই স্বামী এবং স্ত্রী একে অপরকে ছাড় দিতে হবে। উভয়ের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। কারণ বিজ্ঞ মানুষ ও ওলামায়ে কেরাম বলেন সুন্দর ও সুস্থ পরিবার পাওয়ার জন্য দীনদারীতা আমানতদারীতা, বিশ্বাস এবং ত্যাগী হওয়া খুবই জরুরি। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক
এইচ এম কামরুজ্জামান সাকী,
সাংবাদিক ও ইসলামী কলামিস্ট।

Check Also

নওগাঁর পোরশায় লকডাউনের পঞ্চম দিনে কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন

নাহিদ পোরশা, (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর পোরশায় লকডাউনের পঞ্চম দিনে জন সচেতনা বাড়াতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *