Breaking News
Home / অপরাধ / নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য

এইচ এম হারুন (এনাম) নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, এমনকী অনেক সময় উচ্চবিত্তেরও শেষ ভরসা এই প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এখানে থেমে নেই দালালদের তৎপরতা। এখানকার দালালদের কৌশল একটু ভিন্ন। তারা দালালি করেন কমিশন ও বেশি চিকিৎসা সুবিধা দেয়ার জন্য। যেমন অগ্রাধিকারভিত্তিক ওয়ার্ডের ব্যবসা, বেডের ব্যবসা, অপারেশন ইত্যাদি ব্যবস্থা করা।

এখানকার দালালরা এর বিনিময়ে বিভিন্ন প্যাকেজ টাকা নিয়ে থাকেন। নুরুল ইসলাম নামের এক রোগী জানান, নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য ইউসুফ নামের এক দালালকে বাধ্য হয়ে বেছে নিয়েছেন। কারণ দালালদের মাধ্যমে চিকিৎসা করানোর কারণে সুযোগ-সুবিধা বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

নুরুল ইসলাম জানান, দালালদের কমবেশি অনেকেই এখানকার তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী অথবা তাদের নিয়ন্ত্রণের লোকজনই জড়িত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দালাল জানান, তিনি হাসপাতালের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তার দাবি, তিনি কারো সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন না। রোগীর সেবা করলে রোগীর লোকজনই তাকে বকশিস দেয়।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, চিকিৎসকদের একটি অসাধু অংশ বেসরকারি হাসপাতালের দালাল হিসেবে কাজ করে। যেসব রোগী সরকারি হাসপাতালে ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করে তাদেরকে অনেকটা বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করে নিয়ে আসতে হয়। তবে এখানেও শেষ নয়। চিকিৎসক কিংবা তাদের সহকারী যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্টের কথা বলবে তার ব্যতিক্রম হলে পুনরায় টেস্ট করতে বাধ্য করায় বলে অনেক রোগী স্বীকার করেন।হাসপাতালের সামনে একটি প্যাথলজি ল্যাবে গিয়ে দেখা যায়, ওই সময় কোনো ডাক্তার না থাকলেও সহকারী পাথলজিস্ট দিয়ে টেস্ট করেন। তাতে ডাক্তারের নাম ও সিল ব্যবহার করা হয়। রাজুর বাজারে
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় ও পায়ে আঘাত পান শাহিদুর রহমান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শেষে তাকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়, কিন্তু কোনো জায়গা না পাওয়ায় মেঝেতে আশ্রয় হয় তার। একটু পরই হাসপাতালের একজন এসে তার লোকজনকে বলে বেড পাওয়া যাবে, কিন্তু এর জন্য ১ হাজার টাকা লাগবে। রোগীর করুণ অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে দাবিকৃত টাকা দিয়ে শাহিদকে বেডে স্থানান্তরিত করা হয়।জানা গেছে, নেএকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আশপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োগ করা শতাধিক দালাল ফুঁসলিয়ে রোগী ভাগিয়ে নিচ্ছে। রোগীরা তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। এসব নামসর্বস্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রচলিত ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রোগীর কাছ থেকে আদায় করা এসব অর্থের নির্দিষ্ট ভাগ চলে যাচ্ছে ওইসব দালাল ও কথিত চিকিৎসকদের পকেটে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা শহিদুল নামে একজন রোগীর স্বজন বলেন, তার ভাইকে হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ৬টি রক্তের পরীক্ষা করিয়ে আনতে বলেন। কিছুক্ষণ পর ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন প্রতিনিধি এসে রোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। কিন্তু অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করায় রোগীর ইনফেকশন দেখা দেয়। ওই টেস্টগুলো করতে প্রায় ৪ হাজার টাকা নেয়া হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিনিয়ত দালালরা তৎপর এবং তাদের কারণে অনেকেই সাধারণ নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত সুযোগ পাচ্ছেন আবার অনেনেই ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Check Also

নরসিংদী পৌরসভার বন্ধ ঘোষিত ৪ টি কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন আজ

মোঃ রফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদী গত ১৪ ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার কারনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *