Breaking News
Home / অপরাধ / র‌্যাব-১ এর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমান গাঁজাসহ ০৩ জন মাদক চোরাকারবারী ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ০২টি প্রাইভেটকার আটক

র‌্যাব-১ এর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমান গাঁজাসহ ০৩ জন মাদক চোরাকারবারী ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ০২টি প্রাইভেটকার আটক

আলিফ হাসান

চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, বেশ কিছুদিন ধরে একটি মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ব্রাহ্মনবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে অবৈধভাবে গাঁজা পাচার করে কৌশলে রাজধানীতে নিয়ে আসছে। এরপর এসব মাদক দ্রব্য সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ সারাদেশে। এই মাদক চোরাচালনকারী চক্রটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য মাদক পরিবহনে যাত্রীবাহী বাস, মৌসুমী শাক-সবজি বহনকারী ট্রাক, আম, ধান, গম, ভূট্টা ইত্যাদি পরিবহনকারী গাড়ি ব্যবহার করলেও বর্তমানে তারা মাদক পরিবহনে প্রাইভেটকার ব্যবহার করছে বলে জানা যায়। প্রাপ্ত গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ মাদক চোরাচালানকারী এই সিন্ডিকেটটিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুন ২০১৯ ইং তারিখ আনুমানিক ১৭৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ব্রাহ্মনবাড়িয়া হতে ০২টি প্রাইভেটকারে করে একটি মাদকের চালান নিয়ে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী ঢাকার দিকে আসছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি প্রাইভেটকার দুটির গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকে এবং সর্বশেষ রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন গাওয়াইর কাজী বাড়ি এলাকায় গাড়ি দুটি সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তদপ্রেক্ষিতে আভিযানিক দলটি বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ মাদক চোরাকারবারী ১) মোঃ বাছির মিয়া (৩০), পিতা- খোয়াজ আলী, ২) মোঃ ওলিদ হোসেন (২৮), পিতা- হিরন মিয়া, মাতা- জুয়েরা খাতুন, উভয় সাং- উত্তর চকবস্তা, পোষ্ট- কসবা, থানা- কসবা, জেলা- ব্রাহ্মনবাড়িয়া, বর্তমানেঃ সাং-গাওয়াইর, মসজিদ রোড, থানা- দক্ষিণখান, ডিএমপি, ঢাকা এবং ৩) মোঃ জীবন (১৯), পিতা- মৃত জাকির হোসেন, মাতা- রোকেয়া বেগম, সাং- মান্দারপুর, পোষ্ট- জমসপুর, থানা-কসবা, জেলা- ব্রাহ্মনবাড়িয়া, বর্তমানেঃ সাং- গাওয়াইল কাজীবাড়ি, থানা- দক্ষিণখান, ডিএমপি, ঢাকা’দেরকে গ্রেফতার করে। এসময় ধৃত আসামী ও তাদের চালিত প্রাইভেটকার তল্লাশী করে ৮২ কেজি গাঁজা, ০৪ টি মোবাইল ফোন, নগদ ১,০৩,৯০০/- (এক লক্ষ তিন হাজার নয়শত মাত্র) টাকা উদ্ধার করা হয় এবং প্রাইভেট কার দুইটি জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালানকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ব্রাহ্মনবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত হতে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে গাঁজা নিয়ে আসে এবং সেই চালান প্রাইভেটকারে করে ঢাকায় নিয়ে আসে। এই চক্রের অন্যতম সদস্য ব্রাহ্মনবাড়িয়ার গঙ্গানগর এলকার স্বপন। সে ভারত হতে গাঁজার চালান নিয়ে আসে। এরপর স্বপনের নিকট হতে ধৃত আসামী বাছির, ওলিদ ও জীবন প্রাইভেটকারে করে ঢাকায় নিয়ে আসার পর ঢাকাস্থ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। মাদকদ্রব্য পরিবহনের জন্য প্রাইভেটকারগুলো অনেক স্বí মূল্যের হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত এসব প্রাইভেটকার এই চক্রের সদস্যরা এক থেকে দেড় লক্ষ টাকায় ক্রয় করে মেরামত করে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করে। মাদক পরিবহনের কাজ অনেক ঝুকিপূর্ণ এবং যে কোন সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বিধায় বেশি দামের গাড়ি ব্যবহার করা হয় না বলে ধৃত আসামীরা জানায়।

ধৃত আসামী বাছির’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে পেশায় একজন দর্জি। সে ০২ বছর আগে ঢাকায় আসে। এর অগে সে তার নিজ এলাকায় মাদক ব্যবসা করত। পরবর্তীতে ব্যবসা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সে স্বপনের পরামর্শে ঢাকায় আসে এবং মাদক পরিবহনের জন্য ০১ টি পিকআপ ও ০৪ টি প্রাইভেটকার ক্রয় করে যার একটি গাঁজাসহ রুপগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক আটক হয়। এসব প্রাইভেটকার আগত মাদকের চালান সে ঢাকাস্থ মাদক কারবারিদের নিকট বিক্রয় করে। এযাবৎ অসংখ্য মাদকদ্রব্যের চালান সে ঢাকায় নিয়ে এসেছে বলে জানায়। অধিকাংশ চালান মিরের বাজার ও আশুলিয়া এলাকায় হস্তান্তর করা হয় বলে ধৃত আসামী জানায়। মাদকদ্রব্য বিক্রয়লব্ধ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আদান-প্রাদান হয় বলে ধৃত আসামী জানায়। ধৃত আসাধী ১০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছে বলে স্বীকার করে।

ধৃত আসামী ওলিদ’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে পোশায় একজন কার মেকানিক। সে পা্রয় ১২ বছর যাবৎ ঢাকায় অবস্থান করছে। ধৃত আসামী বাছির এর ক্রয়কৃত কার সে মেরামত করে দিত। পাশাপাশি তার হয়ে গাঁজার চালান পরিবহনে সহযোগীতা করত। সে প্রায় দুই মাস আগে একটি ৩২ কেজি গাঁজার চালানসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়। বর্তমানে সে জামিনে আছে বলে জানায়। সে দীর্ঘ দিন যাবৎ এই সিন্ডিকেটের হয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছে।

ধৃত আসামী জীবন’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে পেশায় একজন ড্রাইভার। সে এই চক্রের সাথে প্রায় এক বছরের বেশী সময় ধরে কাজ করছে। সে ধৃত আসামী বাছির এর নির্দেশে ব্রাহ্মনবাড়িয়া হতে ঢাকায় গাঁজার চালান নিয়ে আসে। চালানপ্রতি তাকে বিশ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে ধৃত আসামী জানায়। সে এপর্যন্ত অর্ধশতের বেশী মাদক চালান পরিবহন করেছে বলে স্বীকার করে।

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে ভাষাসৈনিক দবিরুল ইসলাম স্মরনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক এমএলএ, ভাষাসৈনিক, জেলার কৃতিসন্তান, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *