Breaking News
Home / অপরাধ / নুসরাত হত্যার বিচার চাই

নুসরাত হত্যার বিচার চাই

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে সারা শরীর ঝলসে দেয়া হয়। ৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে মারা যায়। দুঃসাহসিক এবং প্রতিবাদী নুসরাত তার ওপর হয়ে যাওয়া শারীরিক নির্যাতনের প্রতিকার চাইতে গিয়ে এমন হৃদয় কাঁপানো সহিংসতার শিকার হয়। মূল আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশক্রমে তার সহযোগীরা এমন মানবেতর লোমহর্ষক ঘটনার অবতারণা করে।

সারাদেশ তোলপাড় করে দেয়া এই অগ্নিদগ্ধ নুসরাত হত্যা মামলার অভিযোগপত্র শেষ অবধি জমা দেয়া হয় ফেনীর আদালতে। ১৬ আসামির মৃত্যুদন্ড চেয়ে ঘটনা পরম্পরায় বর্ণনায় যে পাশবিক কাহিনি বের হয়ে আসে তা সভ্যতার এক চরম বিপর্যয়। ৮০৮ পৃষ্ঠারা এই নথি জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোঃ শাহ্ আলম। সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে আসামি হিসেবে নাম না থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ জানানো হয়েছে। যিনি রাফি হত্যার পর পুরো ঘটনাকে অন্যদিকে মোড় ঘোরাতে চেয়েছেন। অবশ্য নুসরাতের ভিডিও ধারণ এবং প্রচারের দায়ে তাকে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা আইনে আসামি করার ব্যাপারটি দৃশ্যমান হলেও তিনি এখন পর্যন্ত গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। শুধু তাই নয়, আগাম জামিন চেয়ে আদালতে আবেদনও জমা দিয়েছেন।

এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বন্ধ হোক শিশু ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে গত ৫ মাসে দেশে ২৩৩ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এমন সম্মেলনে অভিযোগ ব্যক্ত করা হয় বিচারহীনতা ও দীর্ঘসূত্রতার অপসংস্কৃতি ধর্ষণের মতো একটি পশুবৃত্তিকে থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায়ই ৫৫ শিশু এমন নারকীয় হিংস্রতার বলি হচ্ছে। বছরের শুরুর দিকে ৩ মাসে ১৭৬ শিশুকে নির্যাতন করা হয়েছে। ধর্ষণের পর ২৫ শিশুকে হত্যাও করা হয়।

এমন জঘন্য অপরাধে বর্তমানে শিশুরাও জড়িত হওয়ার দুঃসংবাদ সংশ্লিষ্ট মহলকে ভাবিয়ে তুলছে। নিপীড়িত, অসহায় ও দুর্বল গোষ্ঠী এবং ক্ষমতাবান অপরাধী চক্র এমন অসম দুই শ্রেণীর লড়াইয়ে বিত্তবানরাই আইনের ফাঁক-ফোকরে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়।

গত বছর গণপরিবহনে চাঞ্চল্যকর রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক রায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হলেও তার কার্যক্রম সেখান অবধি থেমে আছে। পরবর্তী পদক্ষেপ যেমন উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা তেমন কর্মপ্রক্রিয়া সেভাবে শুরু করতে কেন দীর্ঘসূত্রতার জালে আটকে আছে সে প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব দীর্ঘমেয়াদী সময়ক্ষেপণ থেকে আইনকে আরও শক্তিশালী এবং নিয়মতান্ত্রিক করা অত্যন্ত জরুরী। হত্যা, ধর্ষণের মতো পশুবৃত্তির দায়ে মামলার বিচারের যে রায় বিজ্ঞ আদালত দিয়ে থাকে সেখানে আপীল করার সুযোগ আদৌ থাকা উচিত কিনা সে ব্যাপারটি ভাবতে হবে। কারণ, এমন সুযোগের অন্তরালে রায়কে ভিন্ন খাতে মোড় ঘুরিয়ে দেয়াই শুধু নয়, তার চেয়েও বেশি অহেতুক সময় অপচয় করে রায়কে দীর্ঘসূত্রতার জালে আটকে দেয়াও।

নুসরাত হত্যার বিচারে এমন অপসংস্কৃতি যেন কোনভাবেই জায়গা করে নিতে না পারে প্রথম থেকেই সেখানে তীক্ষ্ণ নজরদারি করা মামলার স্বার্থেই জরুরী। যে দুর্ঘটনা নিয়ে সারাদেশ শিহরিত হয়, মানবতার স্খলন হয়, মনুষ্যত্বের অপমান হয় তা শুধু দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তি করাই নয়, তাৎক্ষণিক কার্যক্রমে রায়ের সর্বশেষ সমাধানও বিশেষ বিবেচনায় আনতে হবে।

রাফি হত্যার মতো জঘন্য নৃশংস ঘটনায় যাদের আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে তাদের শুধু দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নয়, সর্বোচ্চ শাস্তি বিধান এবং রায় কার্যকরে যাতে সময়ক্ষেপণ না করা হয় সেদিকে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের দায়ভাগও বিজ্ঞ আদালতের। রাফি হত্যার আসামিদের কোন ধরনের সুযোগ না দিয়ে যথার্থ বিচার প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা যায় সেদিকেও বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে রফিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার …

One comment

  1. There is noticeably a bundle to find out about this. I assume you made certain good factors in options also.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *