Breaking News
Home / অপরাধ / সিটিং সার্ভিসের প্রতারণা

সিটিং সার্ভিসের প্রতারণা

গণপরিবহন সংকট, নৈরাজ্যসহ নানা ধরনের অনাকাংখিত ঘটনা পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সময়েই এসেছে অথচ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জনসংখ্যাবহুল রাজধানী ঢাকায় পরিবহন সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের সংকট নিরসন না হলে, তা জনসাধারণের জন্য সীমাহীন দুর্ভোগের কারণ হয় সঙ্গত কারণেই এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য বলেই প্রতীয়মান হয় সম্প্রতি জানা গেল, নানা নাটকীয়তার পর এবারসিটিং সার্ভিসনিয়ে ত্রিমুখী সংকট সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করা যেতে পারে যেমন আমি নিজেই প্রমান বলাকা সিটিং সার্ভিস উঠলাম যে গলাকাটা ভাড়া নিচ্ছে সময়টা ছিল ১০:১১ মিনিট তারিখ ১৩/০৪/২০১৮ ইং রোজ শুক্রবার সায়দাবাদ থেকে গাজীপুর কয়েকজন যাত্রিদের সাথে কথা বলে বুজতে পরিলাম এই রকম অভিযোগ হাজার আছে কিন্তু দেখার কেউ নেই বলার কেউ নেই ।

এরপর এই সার্ভিসটি শৃঙ্খলায় আনতে নানা উদ্যোগ নিলেও কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি। এখন যখন আবার ত্রিমুখী সংকটের বিষয়টি সামনে এলো, তখন তা উদ্বেগ জনক বলেই আমরা মনে করি। মূলত পরিবহন মালিকশ্রমিকদের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চাপ আইনি জটিলতায় সরকার গত এক বছরেও সংক্রান্ত কোনো নীতিমালাও চূড়ান্ত করতে পারেনি বলেও জানা যায়

এক্ষেত্রে আমলে নেয়া জরুরি যে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিটিং সার্ভিসের মাধ্যমে গলাকাটা ভাড়া আদায় করতেই নীতিমালা করতে দিচ্ছেন না প্রভাবশালীরা। তাদের চাপে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। নীতিমালায় মালিক পক্ষের ইচ্ছে অনুযায়ী কিছু ধারা সংযোজন করতে চাপ দেয়া হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, এসব বিষয় সরকার সংশ্লিষ্টদের আমলে নিতে হবে। গলাকাটা ভাড়া আদায় করার জন্য নীতিমালা করতে দেবে না প্রভাবশালীরা এমনটি কাম্য হতে পারে না। সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার জনসামর্থ্যকে বিবেচনা করে রাজধানীর বাস সার্ভিস সংক্রান্ত যে কোনো সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা

লক্ষণীয় যে, গত বছর সিটিং সার্ভিস সংকট নিরসনে গঠিত কমিটির সুপারিশকে যাত্রীদের পক্ষ থেকে সিটিং সার্ভিসের বৈধতা দেয়ার পাঁয়তারা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে কমিটি যে সুপারিশ দিয়েছে তা বিআরটিএর রুট পারমিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ছাড়া উল্লেখ্য, অব্যাহত ভাড়া নৈরাজ্য আর লাগামহীন যাত্রী হয়রানির প্রেক্ষিতে গত বছর এপ্রিল মাসে রাজধানীর সিটিং সার্ভিস বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। লক্ষ্যে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। ১৬ এপ্রিল থেকে সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নামে বিআরটিএ। অবস্থায় পরিবহন মালিকরা গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিলেন বলেও জানা যায়। আমরা বলতে চাই, আবার যখন সিটিং সার্ভিস সংক্রান্ত সংকটের বিষয়টি সামনে আসছে, তখন সামগ্রিক বিষয়াদি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না যে, এমনিতেই যানজট থেকে শুরু করে, নানা ধরনের নিত্যনতুন সংকট মোকাবেলা করেই রাজধানী বাসীকে জীবন যাপন করতে হয়। আবার যদি বাস সার্ভিস সংক্রান্ত সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়, তবে তা অত্যন্ত উৎকণ্ঠাজনক সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, রাজধানীর বাস সার্ভিসগুলো যাতে যাত্রীবান্ধব হয় সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের এবং সে ব্যাপারে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে

মনে রাখা দরকার, রাজধানীতে বাস সার্ভিসের নামে নৈরাজ্যের বিষয়টি নানা সময়েই আলোচনায় এসেছে, এসেছে নানা ধরনের অভিযোগ। ফলে পরিবহন সংক্রান্ত যে কোনো অনিয়ম বন্ধে সরকার কোনো প্রকার ছাড় দেবে না এমনটি কাম্য। ছাড়া ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় বন্ধ করা ছাড়াও, যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা বন্ধেও নিতে হবে পদক্ষেপ। সার্বিক ভাবে বাস সার্ভিস সংক্রান্ত যে কোনো সংকট নিরসনে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত হবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা

নিচে বাসটির ছবি দেওয়া হল

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে রফিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *