Breaking News
Home / আইন ও আদালত / শামীম ওসমানের প্রতিপক্ষ পলাশ বিএনপিতে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতা

শামীম ওসমানের প্রতিপক্ষ পলাশ বিএনপিতে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতা

এমএ খান মিঠু, নারায়ণগঞ্জ শাহজাহান জনি, সিদ্ধিরগঞ্জ :

জাতীয় রাজনীতিতে নানা কারণেই আলোচিত নারায়ণগঞ্জ। এখানে যে কোনো ঘটনা ঘটলেই গণমাধ্যম তা লুফে নেয়। আর যদি হয় নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি, তাহলে তো কথাই নেই।

জেলার অন্যান্য আসনের তুলনায় নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনটি থাকে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে, তা রাজনীতি বা অর্থনীতি নানা দিক থেকেই। এই আসনে রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড এবং ফতুল্লার পঞ্চবটীতে বিসিক শিল্পনগরী। এ ছাড়াও ছোট-বড় অনেক গার্মেন্টসহ নানা শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখানে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এই এলাকার ওপর দিয়েই গেছে।

এই আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রার্থী বর্তমান এমপি একেএম শামীম ওসমান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে বিদেশ চলে যান শামীম ওসমান। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি দেশে ফিরলেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হন। এ কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। এ সুযোগে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি হন। গত জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে এক যুগ পর আবারও এমপি নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। তবে এবার দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশের। এ দুজন ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন হঠাৎ করেই দলের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সদস্য পদ পাওয়া কামাল মৃধা। অবশ্য দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর দলের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।

আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন লড়াইয়ে বিএনপিতেও রয়েছে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতা। দলটি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সাবেক এমপি ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন। তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ফতুল্লার ধনকুবের এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য শাহ আলম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজনীতিতে নবাগত শাহ আলম আওয়ামী লীগের সারাহ বেগম কবরীর কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। শাহ আলমের পরাজয় মাত্র দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে। যে কারণে তার প্রতি দলের আস্থা এখনও অটুট আছে বলে মনে করেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। বসে নেই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদও। তিনিও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

১৯৯৬ সালের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপিরা আলোচিত ও সমালোচিত হচ্ছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন ওই সময়কার এমপি একেএম শামীম ওসমান। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিতর্কিত হন সরকারি দলের এমপি গিয়াস উদ্দিন। তিনি ওই নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতির পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হলেও সফলতা দেখাতে পারেননি চিত্রনায়িকা কবরী।

এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে একেএম শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জনগণের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে ডিএনডি প্রজেক্ট, স্টেডিয়াম ও রাস্তাঘাট নির্মাণ অন্যতম। শামীম ওসমান জানান, ১৯৯৬ সালের পর তিনি ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়েছেন। মাঝখানে দীর্ঘ ১২ বছরের গ্যাপ থাকায় সেই সময়কার উন্নয়ন কাজগুলোর শতকরা ৯০ ভাগ সম্পন্ন করতে পেরেছেন। প্রথমবার এমপি হয়ে তিনি দুই হাজার ৬শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছিলেন। গতবার এর চেয়েও বেশি কাজ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ উন্নয়নকাজ দেখে খুশি হয় না। উন্নয়ন কাজ করাটা এমপির দায়িত্ব। তিনি সেটাই করছেন। শামীম ওসমান বলেন, আগে নিজের জন্য রাজনীতি করতাম। এখন মহান আল্লাহকে খুশি করার জন্য রাজনীতি করি। এ জন্য তাকে দেখে রাখতে মহান আল্লাহই যথেষ্ট। আগামী নির্বাচন করা কিংবা ওই নির্বাচনে জয়-পরাজয়- সব কিছুই আল্লাহর ওপর নির্ভর করছে।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী কাউসার আহমেদ পলাশ জানান, তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করেন। সব সময়ই শ্রমজীবী মানুষের পাশে ছিলেন, আছেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন। তিনি বলেন, তার রাজনীতি কোনো ক্লাব কিংবা ড্রয়িংরুম ভিত্তিক নয়। তিনি ফতুল্লার বাসিন্দা। সেখানেই থাকেন। এলাকার মানুষ তাদের প্রয়োজনে তাকে পাশে পান। এসব কারণে মনোনয়নের বেলায় দল তাকে মূল্যায়ন করবে। তবে মনোনয়ন না পেলেও তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

কামাল মৃধা জানান, তিনি ২৩ বছর পর আবার দলে ফিরেছেন। অতীতে দলের জন্য ১৩ বার জেল খেটেছেন। দল থেকে বহিস্কারের পর বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রহস্যজনক কারণে বিএনপি তাকে দলের সদস্য করেনি। কমিটিতেও রাখেনি। তার দাবি, আওয়ামী লীগের জন্য তার ইনভেস্টমেন্ট অনেক। মানুষও তাকে চেনে। আর তার রাজনীতি একজন লুণ্ঠনকারীর বিরুদ্ধে। তাই দলের মনোনয়ন পেলে সাধারণ মানুষ তাকে লুফে নেবে।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন বলেন, তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে তিনি আজকের পর্যায়ে উঠে এসেছেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। তাই এই আসনের প্রতিটি এলাকা তার চেনা। প্রতিটি মানুষ তার পরিচিত। তা ছাড়া ওয়ান-ইলেভেনের সময় একমাত্র তার বিরুদ্ধেই প্রতিহিংসামূলকভাবে ২৯টি মামলা দেওয়া হয়েছিল। এসব বিবেচনার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের সমর্থনের বিষয়টি চিন্তায় রেখে মনোনয়ন দেওয়া হলে ইতিবাচক হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন।

শাহ আলম জানান, ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে তাকে জোর করে হারানো হয়েছিল। তার জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শাহ আলম বলেন, তিনি সুস্থ ধারার রাজনীতি করেন। সাধারণ মানুষের জন্য রাজনীতি করেন। তিনি আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন চাইবেন। সেইসঙ্গে দলের মনোনয়ন পেলে এবং জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে তিনি জয়ী হবেন বলেও আশা করছেন।

অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, জেলা যুবদলের সভাপতি থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে দল তাকে মূল্যায়ন করেছে। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়ে দল তাকে আরেকবার মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন।

 

Check Also

৩৪ বোতল ফেন্সিডিল ও ১ মোটরসাইকেল উদ্ধার।

মোঃ আব্দুল্লাহ আল মমিন(পাটগ্রাম),লালমনিরহাট বিশেষ অভিযানে হাতীবান্ধা হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃক ৩৪ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *