Breaking News
Home / আইন ও আদালত / হোসেনি দালানে বোমা হামলা : দুজনের কারাদণ্ড, খালাস ৬

হোসেনি দালানে বোমা হামলা : দুজনের কারাদণ্ড, খালাস ৬

হোসেনি দালানে বোমা হামলা : দুজনের কারাদণ্ড, খালাস ৬

ফাহাদ আহমেদ মিঠু( সি আর) ঃ পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলার রায় দিয়েছে আদালত। রায়ে দুজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড আর বাকি ৬ আসামিকে খালাস দেয়া হয়। মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে ১ মার্চ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেছিলেন বিচারক। কারাদণ্ড প্রাপ্ত দুই আসামির একজন হলেন আরমান। তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর কবির হোসেনকে দেওয়া হয় সাত বছরের কারাদণ্ড। ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে হোসেনি দালান এলাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলা চালায় জেএমবি। এ ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানায় এসআই জালাল উদ্দীন বাদী হয়ে মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে চকবাজার থানা পুলিশ। পরে এর তদন্তভার ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক মো.শফিউদ্দিন শেখ ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ১০ জঙ্গিকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর মামলাটি ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়। ২০১৭ সালের ৩১ মে ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পর ওই আদালতে মামলার বাদী মো.জালাল উদ্দিন সাক্ষ্য দেন।এরপর ২০১৮ সালের ১৪ মে মামলাটি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়।বদলি হওয়ার পর থেকে পায় বিচারের গতি। ট্রাইব্যুনালে আসার পর ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। এরই মধ্যে অভিযোগপত্রভুক্ত ১০ আসামির মধ্যে জাহিদ হাসান ও মাসুদ রানার পক্ষে আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, ওই আসামিরা নাবালক। এর স্বপক্ষে জন্মসনদ,পরিক্ষার সনদ জমা দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনালে। আদালত সব কাগজপত্র পরিক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাদের শিশু হিসেবে আক্খ্যায়িত করেন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী ওই দুই আসামিকে শিশু হিসেবে আক্খ্যায়িত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর বিচারের জন্য সম্পূরক অভিযোগপত্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওই মামলায় ১৩ জঙ্গি জড়িত ছিলেন। এদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযানের সময় তিন জঙ্গি ক্রসফায়ারে মারা যান। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা সবাই জেএমবি’র সদস্য। মামলার আসামিরা হলেন -কবির হোসেন, রুবেল ইসলাম, আবু সাঈদ, আরমান, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাসুদ, শাহ জালাল, ওমর ফারুক, চাঁন মিয়া, জাহিদ হাসান ও মাসুদ রানা। আসামিদের মধ্যে আরমান, রুবেল ও কবির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ‘বন্দুক যুদ্ধে ‘ নিহত আবদুল্লাহ বাকি ওরফে নোমান ছিলেন হোসেনি দালানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারি। হামলার আগে ১০ অক্টোবর তারা বৈঠক করে পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেন। বোমা হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জাহিদ, আরমান ও কবির। কবির ও জাহিদ ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন। হামলার পর আশ্রয়ের জন্য কামরাঙ্গীচরের বাসা ভাড়া করেন আরমান ও রুবেল। ঘটনাস্থলে আরমান পরপর পাঁচটি বোমা ছুঁড়েন। বাকি পাঁচজন- চাঁন মিয়া, ওমর ফারুক, আহসানউল্লাহ, শাহ জালাল ও আবু সাঈদ হামলার ভিডিও করা ছাড়াও হামলায় উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করেন। আসামি মাসুদ রানারও হামলায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন ঢাকার গাবতলীতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে এ এএসআই ইব্রাহীম মোল্লাকে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে গ্রেফতার হন তিনি।

Check Also

রাজশাহীতে পরকীয়ায় প্রেমিক জুগল আটক

সুজন তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে রাজশাহী নগরীর একটি আবাসিক হোটেলে উঠেছিলেন এক নারী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *