Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় ব্যাংকিং খাত একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় ব্যাংকিং খাত একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ব্যাংকিং খাত একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে, ব্যাংকিং খাতে যে কোনো ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা নিরসনের কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট থেকে শুরু করে নানা ধরনের অভিযোগ আছে। আর সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, সোমবার বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন, ঝুঁকির ক্ষেত্রে এ মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের খাত। এই খাতের দুর্নীতি দমনে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য ব্যাংক খাতে তদারকি বাড়াতে হবে। আবার ঋণ আদায়ে আইনগত ও আর্থিক কাঠামোর উন্নতি করতে হবে বলেও তিনি বলেছেন।
আমরা মনে করি, যদি এ মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের খাত হয়- তবে পরিস্থিতি কতটা উৎকণ্ঠাজনক তা আমলে নিতে হবে সংশ্লিষ্টদেরকেই এবং যথাযথ পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ব্যাংকিং খাতের যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এটা বিবেচনা করা দরকার যে, তার কথাতে এমন বিষয়ও উঠে এসেছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকে তারল্য সংকট না থাকলেও খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। আবার বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংকে তারল্য সংকট আছে। আমরা বলতে চাই, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা, বিশ্বব্যাংক বলছে সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি! ফলে সংশিষ্টদের এটা ভেবে দেখা দরকার, ঋণ খেলাপির বিষয়টি নানা সময়েই আলোচনায় এসেছে, তদুপরি যদি এই ঋণ খেলাপি বাড়তে থাকে তবে তা ব্যাংকিং খাতকে আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তুলবে এমন আশঙ্কাও অমূলক নয়। কেননা এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, ঋণ খেলাপি মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ। যখন এমনটিও জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে এই ঘাটতি নিরসনে বাজেটের মাধ্যমে অর্থ দেয়া হচ্ছে। আর বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ বলছেন, মুদ্রানীতি এখন সম্প্রসারণমূলক হয়ে গেছে। বিশ্ব অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি অনুযায়ী, সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি হওয়া উচিত- তখন আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ করতে হবে।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, বিভিন্ন সময়েই ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এখন যখন বলা হচ্ছে, সবেচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে ব্যাংকিং খাত- তখন স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের মনে রাখতে হবে. বিভিন্ন সময়েই গণমাধ্যমে উঠে আসা খবরে ব্যাংকিং খাতের যে চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে, তা অত্যন্ত পরিতাপের। ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি ছাড়াও খেলাপি ঋণের বিষয়টি বার বার আলোচনায় এসেছে। আমরা মনে করি, যখন নানা ধরনের অনিয়মের কারণে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তখন এটা মনে রাখা দরকার যে, এগুলো ব্যাংকিং খাতের জন্য কতটা আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। বলাই বাহুল্য, দেশে এখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। কিন্তু যদি এ খাতের অরাজকতা দূর না হয় তবে তা কোনোভাবেই স্বস্তির কারণ হতে পারে না। সঙ্গত কারণেই ব্যাংকিং খাতে যেভাবে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, লুটপাট ও দুর্নীতির মতো অভিযোগগুলো নানা সময়েই উঠে এসেছে- সেগুলো আমলে নিতে হবে। পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনা রোধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ। সর্বোপরি আমরা সরকার সংশ্লিষ্টদের বলতে চাই, জালিয়াতি-লুটপাটসহ নানা ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি ব্যাংকিং খাত এবং দেশের অর্থনীতির জন্য কত বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে সেটি অনুমান করা কঠিন নয়। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। আমরা মনে করি, যত দ্রত সম্ভব ব্যাংকিং খাত নিয়ে সতর্ক হতে হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। আর তা না হলে সংকট বাড়বে এমন আশঙ্কা থেকেই যাবে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যত দ্রত সম্ভব সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

Check Also

পেঁয়াজের দাম লাগামছাড়া, সমাধান কোথায়?

সম্পাদকীয় হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *