Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / প্রকৃতির স্বার্থেই বাঁচাতে হবে সিআরবি

প্রকৃতির স্বার্থেই বাঁচাতে হবে সিআরবি

বৃক্ষ আমাদের পরম বন্ধু। আমাদের প্রতিটি বিশ্বাসের সাথে বিজড়িত বৃক্ষ। তবুও মানুষের নির্বিচার আক্রমণের শিকার বৃক্ষ। অরণ্য ধ্বংস করে গড়ে তোলা হয়েছে বসতি, গ্রাম ও নগর। সবুজ মাঠ, বিস্তীর্ণ অরণ্য, ঢেউ খেলানো পাহাড়, প্রবাহমান নদী,উন্মুক্ত আকাশ, বিশাল সমুদ্র, বায়ুমন্ডল ইত্যাদি প্রকৃতির অনবদ্য দান, যা আমাদের পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রকৃতির এসব উদার দান মানুষের জীবনকে করে তুলেছে সুষ্ঠু, সুন্দর ও উপভোগ্য।

বৃক্ষ মানুষের জন্য রচনা করেছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। গাছ মানুষকে কাঠ, ফুল ও ফল ছাড়াও উপহার দেয় অক্সিজেন, জীবজন্তুর খাদ্য, বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ, পাখি ও কাঠ বিড়ালীর বাসা, কীটপতঙ্গের আশ্রয়। একটি মাঝারি আকারের গাছ বছরে এক টন অক্সিজেন উৎপাদন করে। আমরা প্রতিদিনের শ্বাস কার্যে প্রচুর অক্সিজেন ব্যয় করছি। জ্বালানি ও পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে প্রচুর অক্সিজেন প্রতিনিয়ত ক্ষয় হচ্ছে। উদ্ভিদ তা অকাতরে পুরণ করে দিচ্ছে।

প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে গড়ে ওঠে, গড়ে ওঠে গাছ-গাছালিও; কখনো তা হয়ে ওঠে অরণ্য। আর মানুষ সৃষ্টি করে বাগান। অরণ্যের বৈচিত্র্য বাগানে নেই। তাই একবার অরণ্য ধ্বংস হয়ে গেলে মানুষের পক্ষে তা সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। ষাটের দশকের শুরুতে প্রায় ৪৮০ বর্গ কিলোমিটার সবুজ অরণ্য ধ্বংস করে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এরপর বিশাল জলাধারের সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু আগের বনরাজি বেষ্টিত পাহাড়গুলো আর নেই।

ফারাক্কা বাঁধের ফলে পদ্মার কূল-উপকূলে ধ্বংস করা হয়েছে অরণ্যরাজি। বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে চিংড়ি চাষের জন্য ধ্বংস করা হয়েছে বিশ হাজার একর বনাঞ্চল। ২০০৩ সালে জোট সরকার মধুপুর ইকোপার্ক নির্মাণের ঘোষণা দেয়। স্থানীয় অধিবাসীদের কারও মতামতের তোয়াক্কা না করে তিন হাজার একর অরণ্য ধ্বংস করে নতুন দেয়াল দেয়া হয়। উৎখাত করা হয় প্রায় পঁচিশ হাজার আদিবাসীদের। ২০০৪ সালের ৩রা জানুয়ারি এর প্রতিবাদে মিছিল বের হলে শান্তিপূর্ণ মিছিলে চলে গুলিবর্ষণ, বহু মানুষ আহত হয়, আর নিহত হন পিরেন স্লান। সাময়িক বন্ধ হয় ইকোপার্ক নির্মানের কাজ। পরবর্তীতে এক-এগারোর সরকার পুনরায় শুরু করে এ কাজ। ২০০৭ সালে চলেশ রিসিলের নেতৃত্ব গড়ে ওঠে আন্দোলন। এরপর ১১ জানুয়ারী জরুরি অবস্থা জারী করা হয়। এতে সুযোগ পেল সেনা সমর্থিত সরকার। প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়ায় চলেশ রিসিল কাল হলো যৌথ বাহিনীর চোখে। ১৮ মার্চ, ২০০৭ যৌথ বাহিনীর অমানুষিক নির্যাতনে প্রাণ দিতে হলো চলেশ রিসিলকে। কিন্তু তবুও থেমে থাকেনি ইকোপার্ক নির্মাণ। আবার পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের নির্দেশিকা লঙ্ঘন ও জনমতকে উপেক্ষা করে রামপালে চলছে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ এক লীলাভূমির নাম চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি)। বৃটিশ আমলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের হেডকোয়ার্টার, চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং(সিআরবি) ভবনকে কেন্দ্র করে এর আশেপাশের জায়গাজুড়ে শতবর্ষী গাছগাছালি, ছোট-বড় পাহাড়-টিলা গুলো যে কারো মনকে স্নিগ্ধতায় ভরিয়ে দিবে। ইট-পাথরের শহরে সবুজের ছোঁয়া পেতে নগরবাসী সকাল-বিকেল-সন্ধ্যায় এই সিআরবিতে হাঁটাহাঁটি, আড্ডা দিতে আসে। তারা এ স্থানটিকে চট্টগ্রামের ‘ফুসফুস’ বলে থাকেন। আর এই ফুসফুসকে ধ্বংসের অংশ হিসেবে এখানে বড়সড় হাসপাতাল নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সম্প্রতি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে ‘ইউনাইটেড হাসপাতাল’ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে সিআরবিতে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ ও ৫০ আসনের নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পরিবেশবাদী, রেলওয়ের শ্রমিক-কর্মচারী, এবং শহরের সাধারণ জনগণ।

সিআরবি চট্টগ্রামের কার্বন শোষণের প্রাকৃতিক কারখানা হিসেবে কাজ করে। অনেক শতবর্ষী গাছগাছালি, পাহাড় ছাড়াও আছে ব্রিটিশ আমলে তৈরি স্থাপনা, যার রয়েছে স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক মূল্য। হাসপাতাল নির্মাণের জন্য চট্টগ্রামে অনেক জায়গা থাকলেও শতবর্ষী গাছ, পাখির কোলাহল, বসার জায়গা, হাঁটাহাঁটির পথ, প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে কংক্রিটের ভারি স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদনকে অস্বাভাবিক আচরণ হিসেবে দেখছে স্থানীয়রা। আর কেনইবা প্রকৃতি ধ্বংস করে শহরের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে, তাও বুঝে উঠছেন না স্থানীয় জনগণ ।

অরণ্য হচ্ছে পরম দয়া ও ঔদার্যের প্রতীক, যা নিজের জন্য কিছু দাবি করেনা অথচ মানুষকে ছায়া ও ফল দেয়। বন্দিনী সীতার আশ্রয়স্থল ছিল অশোক গাছের ছায়া। বৃক্ষ হচ্ছে শান্তি ও অহিংসার এক নন্দিত রুপ।

যেকোনো দেশের মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকতে হয় কিন্তু আমাদের দেশে যা রয়েছে তার হিসেবেও রয়েছে ব্যাপক গড়মিল।জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (এফএও) বনবিষয়ক এক প্রতিবেদনে (দ্য স্টেট অব গ্লোবাল ফরেস্ট-২০১৮) বলেছে, বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের সাড়ে ১৩ শতাংশ বনভূমি। তবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এই তথ্য মানতে রাজি হননি। মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশের মোট আয়তনের ১৭ শতাংশ বনভূমি (বন ও বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা)। উভয়ের হিসেবে পার্থক্য থাকলেও বনায়নের পরিমাণ যে কমছে তা সহজেই অনুমেয়। জিএফও এবং ডব্লিউআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বনভূমি উজাড় হওয়ার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চল। ২০১০ সালে দেশের মোট বৃক্ষসম্পদের ৬০ শতাংশ ছিল এই এলাকায়। গত সাত বছরে তা কমে প্রায় ১০ শতাংশ হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকার অঙ্গিকার করেছে যে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে গেলে বাংলাদেশকে বনভূমির পরিমাণ ২২ শতাংশে নিয়ে যেতেই হবে। বৃদ্ধি তো দূরের কথা, সেখানে প্রতিনিয়ত কমছে বৃক্ষ তথা বনভূমির পরিমাণ। আর এসব করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়।স্বাস্থ্যসেবার জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসা বিদ্যার জন্য মেডিক্যাল কলেজের প্রয়োজনীয়তা অবশ্

Check Also

শিক্ষিকা মায়া রানী ঘোষ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার

সুজন রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মহানগরীর কুমারপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা মায়া ঘোষ হত্যার ঘটনায় ঘাতক রাজমিস্ত্রি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *