Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / প্রশ্ন ফাঁসকারে যদি শিক্ষা পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হয় ?

প্রশ্ন ফাঁসকারে যদি শিক্ষা পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হয় ?

যদি শিক্ষা পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। আর তা নিরসনের কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। বলার অপেক্ষা রাখে না, নানামুখী পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ গ্রহণের পরও যখন প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি রোধ করা যাচ্ছে না, তখন নিশ্চিতভাবেই বলা যায় সৃষ্ট এই পরিস্থিতি এক গভীর সংকটকেই স্পষ্ট করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা এবং তদন্ত কমিটির কাজ শুরুর মধ্যেই ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র প্রশ্নও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার তথ্য এসেছে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্র ২৪ মিনিট আগে এবং শনিবার বাংলা দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন ফাঁস হয় পরীক্ষার ৪৫ মিনিট আগে। এসব প্রশ্ন বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

লক্ষণীয় যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কড়াকড়িতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে প্রশ্ন ফাঁসকারীরা ভিন্ন কৌশলে প্রশ্ন দিচ্ছে এমন বিষয়ই সামনে এসেছে। আমরা বলতে চাই, যখন আবারো প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটছে এবং ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে প্রশ্ন ফাঁসকারীরা- তখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। আমলে নেয়া দরকার, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। কেননা, নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেও প্রশ্ন ফাঁসে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিজ্ঞাপন আকারে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ থেকে প্রচার করা হচ্ছে বলেও জানা যায়।

এমনকি নির্দিষ্ট মোবাইল ফোন নম্বরও দেয়া হচ্ছে। তারপরও ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরতে প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে কেন? এমন প্রশ্ন উঠে এসেছে। অভিভাবকরা এমনটিও বলছেন যে, যদি এভাবে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ না করা যায় তাহলে পরীক্ষা আয়োজন করে কী লাভ! আমরা মনে করি, সার্বিকভাবে এই বাস্তবতাকে অনুধাবন করে দ্রুত প্রশ্ন ফাঁস রোধে উপায় বের করতেই হবে। বলাই বাহুল্য, প্রশ্ন ফাঁসসংক্রান্ত সামগ্রিক যে চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে তা কোনোভাবেই স্বস্তিকর নয় বরং একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ছেই, যে পরিস্থিতির নিরসন অপরিহার্য।

সংশ্লিষ্টদের আমলে নেয়া দরকার, প্রশ্ন ফাঁস হলে, যারা সারা বছরে লেখাপড়া করে তাদের চেয়েও প্রশ্ন পাওয়া শিক্ষার্থীরা ভালো পরীক্ষা দেয়- আর এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয় বলেও অভিভাবকদের মধ্যে আশঙ্কা কাজ করছে। আমরা বলতে চাই, প্রশ্নপত্র ফাঁস শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমন এক অধ্যায়কে সামনে আনছে যার প্রভাব অত্যন্ত ভয়ানক। দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহামারীতে আক্রান্ত সর্বস্তরের পাবলিক পরীক্ষা, স্কুল-কলেজের বার্ষিক পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা এবং চাকরির পরীক্ষা।

একটি দেশে যদি এইরূপ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটতে থাকে তবে তা কী ধরনের বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তা বিবেচনা করা জরম্নরি। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রশ্নপত্র ফাঁস দিবালোকের মতো সত্য হলেও জাতির মেরুদন্ড ঘাতী এ ব্যাধি রোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। আমরা মনে করি, প্রশ্ন ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনা যখন একের পর এক ঘটেই চলেছে- তখন তা নিসরসনে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যে কোনো মূল্যে উপায় বের করতে হবে। ভুলে যাওয়া যাবে না, এই পরিস্থিতি রোধ না হলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মানই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, প্রশ্ন ফাঁসসংক্রান্ত পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বের হতে না পারলে ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য তা অশনিসংকেত। প্রশ্ন ফাঁসের এ প্রবণতা রোধ না হলে কেউ কেউ সহজেই বৈতরণী পার হবে, মেধাবী না হয়েও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবে, চাকরির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে- আর এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই সত্যিকারের মেধাবীরা বঞ্চিত হবে, তা কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন ফাঁসসংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে খতিয়ে দেখে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্ত্মবায়নে সামগ্রিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

Check Also

পেঁয়াজের দাম লাগামছাড়া, সমাধান কোথায়?

সম্পাদকীয় হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *