Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / পঞ্চগড়ের চেয়ারম্যান সহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ

পঞ্চগড়ের চেয়ারম্যান সহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ

সুকুমার বাবু দাস, স্টাফ রিপোর্টারঃপঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বারো আউলিয়া গ্রামের মোঃ হাবিবর রহমানের ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম জমি বিক্রয়কে কেন্দ্র করে প্রতারণার শিকার হয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা ও লিখিত অভিযোগ করেন। মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায় জমি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম কারণবশত একই ইউনিয়নের বারো আউলিয়া গ্রামের মৃত: বিশু মোহাম্মদের পুত্র মোঃ ময়ন উদ্দিন এর নিকট জমি বিক্রয় বাবদ বায়না স্বরূপ ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে। জমি দাতা ও ক্রেতা উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে জমা জমির কাগজপত্র নিয়ে পরামর্শের জন্য দলিল লেখক মোঃগোলাম হোসেন এর বাসায় জান এবং কাগজপত্র দেখান। জমির খারিজ না থাকায় খারিজ করার পরামর্শ দেন,পরামর্শ মোতাবেক উক্ত ১৭ শতক জমির খারিজ করার জন্য দলিল লেখক মোঃ গোলাম হোসেনকে বললে তিনি ১৫ হাজার টাকা চাইলে সবিনয় বিনীত অনুরোধ করে ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলে তিনি পুনরায় আপত্তি করলে, জমির বিক্রেতা আরো কিছু টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন এবং জমির কাগজপত্র সহ বায়নাকৃত ৫ হাজার টাকা দলিল লেখক মোঃ গোলাম হোসেন এর নিকট প্রদান করেন। বেশ কিছুদিন পর খাজনা খারিজ প্রস্তুত করা হয়েছে মর্মে পুনরায় জমি দাতা মোঃ রফিকুল ইসলাম এর নিকট হতে আরো তিন হাজার টাকা গ্রহণ করে এবং বাকি অবশিষ্ট টাকা জমি রেজিস্ট্রির দিনে পরিশোধ করবে বলে অঙ্গীকার করেন। জমি রেজিস্ট্রি দিনে দলিল লেখক এর সেরেস্তায় গিয়ে দলিল সম্পাদন করার জন্য ছবিসহ সকল কাগজপত্র জমা দিয়ে সাংসারিক সমস্যার কথা অবগত করে দলিল প্রস্তুত করে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার কথা বলে চলে যান। এমতাবস্থায় দলিল লেখক আনুমানিক বিকাল ৫টায় মোবাইল ফোনে রেজিস্ট্রি অফিসে হাজির হওয়ার জন্য উচ্চস্বরে গালিগালাজ করলে দ্রুত অফিসে হাজির হয়ে লেখায় কৃত দলিলে সহি সম্পাদন করেন এবং সাব রেজিস্ট্রারের কাছে দলিল পৌঁছানোর পূর্বেই খারিজ বাবদ অবশিষ্ট টাকা বুঝে নেন। সাব রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে দলিলটি ফেরত নিয়ে অজুহাত দেখিয়ে জমি দাতা কে বাসায় ফিরে যেতে অবগত করলে সম্পাদন কৃত দলিল খানা দলিল লেখক এর কাছে গচ্ছিত রাখার জন্য অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে লোক মারফতে জমি দাতা জানতে পারেন দলিল লেখক মোঃ গোলাম হোসেন খাজনা খারিজ জাল ভাবে প্রস্তুত করেছে। একথা শুনে দলিল লেখককে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করে ফোন বন্ধ করে ফেলেন। দলিল লেখক এর জালিয়াতির কারণে জমি গ্রহীতাগণ জমি দাতাকে দোষারোপ করে বিভিন্ন কটুক্তি কথা বলে ঝগড়া বিবাদের সৃষ্টি করেন। উক্ত বিবাদের জের ধরে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নিকট বিচার প্রার্থনা করলে চেয়ারম্যান মহোদয় জমি দাতা মোঃ রফিকুল ইসলামকে ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন। আত্মসম্মানের চিন্তা করে বিলম্বের কারণে চেয়ারম্যান গত ১২/০৮/২০২০ তারিখ আনুমানিক সকাল ৬ টায় ৮ থেকে ১০ জন গ্রাম পুলিশ দিয়ে জমি দাতা রফিকুলের বাসা ঘেরাও করে জোরপূর্বক ভাবে চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে আসে এবং উপরোক্ত বিষয়ে দলিল লেখক ও চেয়ারম্যান মোঃ উমের আলী, মোঃ ময়ন উদ্দিন এর যোগসাজশে জমিদাতার সম্মান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে স্ট্যাম্প বিক্রেতা মোঃ ফরাজ উদ্দীন এর কাছ থেকে গত ১০/০৮/২০২০ তারিখে ৩৭৫৮,৩৭৫৯ ও ৩৭৬০ নং নন জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহি সম্পাদন করে নেন। এই নিয়ে জমিদাতা রয়েছেন আতঙ্কে এবং ন্যায্য বিচারের জন্য তিনি মোঃ ময়ন উদ্দীন, পিতা মৃঃ বিশু মোহাম্মদ, সাং- বারো আউলিয়া, মোঃ উমের আলী,পিতা মৃঃ মজির উদ্দীন ও মোঃ গোলাম হোসেন, পিতা মৃঃ খুশি কবিরাজ, সর্ব সাং- উত্তর সরদারপাড়া, থানা- আটোয়ারী, জেলা- পঞ্চগড় এদের তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ সহ মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা নং-৩১৪/২০২০। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মোঃ উমের আলী কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ লক্ষ ১২ হাজার টাকার গ্রাম্য আদালতে শালিস করেছি এবং গ্রাম্য পুলিশ দ্বারা ডেকে আনার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ বিষয়ে মোঃ গোলাম হোসেন মুঠোফোনে বলেন ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে এবং সব খরচ বাদ দিয়ে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পাওনার কথা স্বীকার করেন। এখন জানার বিষয় চেয়ারম্যান বলছে ৩ লক্ষ ১২ হাজার টাকার কথা অন্য দিকে মো: গোলাম উদ্দীন বলছে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার কথা। বাদি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলছে শুধু মাত্র ৫ হাজার টাকা বায়না হয়েছিল এ ছাড়া আর কোন টাকা লেনদেন হয়নি, বিষয়টি কোথায় জানি গরমিল। এ বিষয়ে মোঃ রফিকুল ইসলাম সাব রেজিস্টার, আটোয়ারী, বরাবর একটি লেখিত অভিযোগ করেন।

Check Also

শাহ মখদুম বিমানবন্দরের উন্নয়নে প্রকল্প অনুমোদনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মেয়র লিটন

সুজন রাজশাহী প্রতিনিধিঃ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় শাহ মখদুম বিমানবন্দরের রানওয়ে সারফেসে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *