Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / সেলফি একটি রোগের নাম!

সেলফি একটি রোগের নাম!

বর্তমান সমাজে সেলফি তোলে না এমন মানুষ কমই আছে। নিজেই নিজের ছবি তোলাকে মূলত সেলফি বলা হয়ে থাকে। তবে এখন নিজে একা নয় অনেকে একসঙ্গে থেকেও সেলফি তুলে থাকে। হাটতে, চলতে বসতে, কথায় কথায় ছবি তোলাকেও গবেষকরা মানসিক রোগ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সব থেকে বড় কথা সেলফি যখন আপনার জন্য নেশা হয়ে যায় সেটা আরো খারাপ।

এক ধরনের অবসেসিভ ডিসঅর্ডারের জেরেই এই সেলফি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এবং তা এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে, বিপজ্জনক সেলফি তোলা থেকেও বিরত হচ্ছে না মানুষ। তাতে প্রাণও যাচ্ছে, তবু হুঁশ ফেরে না। সম্প্রতি সেলফি তুলতে গিয়ে ৬২তলা ভবন থেকে পড়ে এক চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়। এবার এই সেলফি তোলার প্রবণতাকে অসুস্থতা হিসেবেই চিহ্নিত করলেন বিজ্ঞানীরা।

সেলফি তোলা যে এক রকমের রোগ তা অনিবার্য। নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং তামিলনাড়ুর থিয়াগারাজার স্কুল অফ ম্যানেজমেন্টের গবেষকরা যৌথভাবে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন।কারণ এ দেশেই ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেকে বেশি। তাছাড়া সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর নিরিখেও ভারত এগিয়ে। ফলে এখানকার নির্বাচিত জনগণদের উপর সমীক্ষা চালিয়েই মানসিক অসুখের হদিশ পেতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এবং তারা তো পেয়েছেন। রোগটির নাম, তাদের মতে সেলফাইটিস। এবং তার বেশ কয়েকটি ধাপও আছে।

কী রকম ব্যাপারটা? দিনে যারা তিনটে করে সেলফি তোলেন এবং প্রত্যেকটিই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, তারা অ্যাকিউট সেলফাইটিসে আক্রান্ত। আর ঘণ্টায় ঘণ্টায় যদি কেউ সেলফি তোলেন, আর তা পোস্ট করতে থাকেন, তবে তিনি ক্রনিক সেলফাইটিসে আক্রান্ত। সেক্ষেত্রে এই ধরনের রোগীরা দিনে অন্তত ছটি করে সেলফি তোলেন। কেন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ?

জানা গেছে, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, সামাজিকভাবে নিজেকে সংযুক্ত রাখা, বা নিজের পরিপার্শ্বের রেকর্ড রাখার তাগিদেই এই কাজ করে চলেন। অনেকে আবার মুড ভালো রাখার উপায় হিসেবে এটিকেও দেখেন। আসলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতাই ক্রমাগত ঠেলে দিচ্ছে সেলফির দিকে। বহু মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে শেষমেশ এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন গবেষকরা।

Check Also

পেঁয়াজের দাম লাগামছাড়া, সমাধান কোথায়?

সম্পাদকীয় হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। কিছুদিন আগে যে পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *