Breaking News
Home / প্রচ্ছদ / অনলাইনে ক্লাসঃযা ভাবছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

অনলাইনে ক্লাসঃযা ভাবছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আকরাম খান ইমন,ববি প্রতিনিধিকরোনায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দেশের এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে বলে সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শিক্ষা মন্ত্রালয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনলাইন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, করোনার কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সকল সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ সমুহে অনলাইন ক্লাস নিতে হবে।যাদের এই সুবিধা নেই তাদের দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে।যাদের অনলাইন ক্লাস নেয়ার সুবিধা আছে তাদের দ্রুত ক্লাস শুরু করতে হবে।এমন পরিস্থিতিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইনে ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনলাইনে ক্লাস করার ব্যাপারে কি ভাবছেন বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা? জানাচ্ছেন আকরাম খান ইমন।বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম জানান, অনলাইনে ক্লাস পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত যেমনই হোকনা কেন এর বাস্তব প্রেক্ষাপট আসলে ভিন্ন।বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা এখন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আছেন যেখানে ঘন্টাব্যাপী অনলাইনে ক্লাস করা দুষ্কর।ক্লাসের কার্যকারিতা কতটা হবে তার আগে বিবেচ্য বিষয় এই ক্রান্তিলগ্নে চড়া মূল্যে ইন্টারনেট কিনে ব্যবহারের সক্ষমতাও সবার নেই।গ্রামে মোবাইল নেটওয়ার্কও সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। তবে ঈদের পরেও লকডাউন চললে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারনেট খরচ দেয়া সাপেক্ষ এ কার্যক্রম চালু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করে বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণ করা দরকার। কারণ সেশনজট এড়াতে এই পদক্ষেপ যদি সঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। সিলেবাসের টপিকস অনুযায়ী লাইভ ক্লাসের পরিবর্তে ভিডিও লেকচার তৈরি করে ইউটিউব বা বিভাগের নিজস্ব গ্রুপে দিলে সেটা একটা সহজ পদ্ধতি হতে পারে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনটা করছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি অনলাইনে ক্লাস- পরীক্ষার পক্ষপাতী না।বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী সুজয় বিশ্বাস শুভ জানান,বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয় শুধুমাত্র সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়,গোট বিশ্ব যখন কোভিড ১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে সেই সংকটকালে অনলাইনে ক্লাশ নেয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই দুর্দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক সম্মিলিতভাবে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধের লড়াইয়ে গণ মানুষের পাশে দাড়াবে, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে সেটা না করে সেশন জ্যামের দোহায় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার কর্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছে।এটা সত্যিই লজ্জাজনক।বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা ও মানবিক অনুষদের শিক্ষার্থী রাজু গাজী জানান, সবার ভালো মোবাইল বা ল্যাপটপ নেই।নেট ফি তো আছেই। সাথে মেস ভাড়া তো বাদ থাকলো।কৃষক পরিবারের এখন মাঠে কাজের চাপ।বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থী তৌহিদ ফেরদৌস শাওন জানান,যেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাদের বেশিরভাগেরই দেখা যায় ল্যাপটপ নেই। অনেকের স্মার্টফোনও নেই।সেক্ষেত্রে দেখা যাবে যাদের স্মার্টফোন/ল্যাপটপ আছে,তারা ক্লাস করতে পারবে,বাকীরা ক্লাস করতে ব্যর্থ হবে। আমরা কখনোই চাই না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে ধনী-গরীব বৈষম্য তৈরী করতে। আবার অনেকের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাও এই লকডাউনে খারাপ হয়ে গেছে;তাদের পক্ষে নিয়মিত মেগাবাইট কিনে ক্লাস করাটা এক প্রকার অসম্ভবই। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রেক্ষাপটে অনলাইন ক্লাস করাটা “অনেকটা ছেড়া চাটাইতে শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার মতোই”।বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম দিপ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্যে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগটি ভালো। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য; যার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করে। অনেককে টিউশনি করে আবার পরিবারকে টাকা পাঠাতে হয়।একদিকে বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর ইন্টারনেট ডাটার দাম অত্যাধিক, অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেটের গতিও নাজুক। অর্থনৈতিক সংকটকালে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ডাটা কিনে সবার পক্ষে অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব হবে না।বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার নিয়ে খেয়ে পড়ে বাঁচতেই কষ্ট হচ্ছে, সেখানে মেগাবাইট কিনে ক্লাস করা তাদের কাছে বিলাসিতা হতে পারে।তাই, পরিস্থিতি বিবেচনায় অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি ভালো উদ্যোগ হলেও তা বাস্তবায়ন অসম্ভব।অনলাইন ক্লাস নেয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের সভাপতিকে অনলাইন ক্লাস নেয়ার ব্যাপারে জানানো হয়েছে।তাদেরকে নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষকদের সাথে মিটিং করতে বলা হয়েছে। কিছু কিছু বিভাগ আমাকে জানিয়েছে।সব কিছু ঠিক থাকলে খুব দ্রুত অনলাইন ক্লাস শুরু হবে।

Check Also

নারায়ণগঞ্জে আরো ৩৭ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু ১

মোঃ আরিফুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আরো ৩৭ জন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *