Breaking News
Home / অপরাধ / হাতের নাগালেই মাদক!

হাতের নাগালেই মাদক!

 

এসব কথা জানালেন নিজাম উদ্দিনের বাবা মোতাহার আলী। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তিনি। রোববার মোতাহার আলীসহ এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন এলাকার প্রধান সমস্যা মাদক। শুধু মোতাহার নন, এলাকার অনেকে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন।

ডিএসসিসির ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন অন্য এলাকাগুলো হলো পোস্তগোলা, কবরস্থান রোড, খন্দকার রোড, এমসি রোড, করিম উল্লাবাগ, নতুন জুরাইন, আলমবাগ। মাদক ছাড়া ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে গ্যাস-পানির সংকট। বাড়ছে মশার উপদ্রব। যত্রতত্র পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। বাতাসে ব্যাপক ধুলাবালু। এর মধ্য পোস্তগোলা ও আলমবাগে ধুলাবালু সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ওয়ার্ডটিতে সিটি করপোরেশনের কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক, খেলার মাঠ, ব্যামাগার ও গ্রন্থাগার নেই।

গতকাল ওয়ার্ড ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

 ডিএসসিসির ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডটি শ্যামপুর ও কদমতলী থানার আওতাধীন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলিগলিতে মাদক বিক্রি ও সেবন শুরু হয়। দিনেও একটি চক্র মাদক বিক্রি করে। শাওন, কাজল, সাকিল, কালি বেবি, কালা আরিফ, শাকিল, সৈকত নামের কয়েক ব্যক্তি এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁদের সহযোগী হিসেবে ইউসুফ, শামিম, রায়হান, টিটু, অনিক, কাজল, সোহেল, পান সজীব, মাছুম, আরিফ মাঠপর্যায়ে মাদক বিক্রি করেন।

করিমউল্লা বাগের বাসিন্দা রুহুল আমিন মণ্ডল বলেন, এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা দিন দিন মাদকাসক্ত হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন অভিভাবকেরা। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, পুলিশ অনেক সময় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরেও ছেড়ে দেয়। এতে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীদের জেলহাজতে পাঠালে পুলিশের লোকসান। এর চেয়ে তাদের ধরে টাকাপয়সা রেখে ছেড়ে দিলে পুলিশের লাভ। কারণ, মাদক ব্যবসা বাড়লে পুলিশেরও ইনকাম বাড়বে।’

তবে পুলিশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে শতভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করছে পুলিশ। গত অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ৯০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মাদকসম্রাট কানা খোকনকে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ আন্তরিক ছিল বলেই তা সম্ভব হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দারা যেসব মাদক ব্যবসায়ীর নাম বলেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, পোস্তগোলার শাওনের নাম মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় আছে। তবে তিনি কিছুদিন ধরে কেরানীগঞ্জ অবস্থান করছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছে। বাকিদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। তাঁদের নজরদারিতে রাখা হবে।

Check Also

রাজধানীতে ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৫০

ফাহাদ আহমেদ মিঠু রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের দায়ে ৫০ জনকে গ্রেফতার করাহয়েছে।সোমবার সকাল ৬ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *