Breaking News
Home / ক্যারিয়ার / ডিমলায় লেখাপড়ার পাশাপাশি দরিদ্র সংসারের ঘাঁনি টানছেন ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী

ডিমলায় লেখাপড়ার পাশাপাশি দরিদ্র সংসারের ঘাঁনি টানছেন ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী

হাছানুর রহমান।
নীলফামারী প্রতিনিধি- দরিদ্র পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে পড়ালেখার পাশাপাশি খোলা আাকাশের নিচে ক্ষুদ্র চা বিস্কুটের দোকান করে সংসারের হাল ধরে গ্রামে আলোচনা এসেছে ৯ম শ্রেণী পড়ুয়া এক ছাত্রী। তার নাম শারমিন আক্তার ( ১৪ ) বাড়ি ডিমলা উপজেলার ৭নং খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের গোডাউনের হাট এলাকায়। সে ওই গ্রামের দরিদ্র সৈয়দ আলী ( ৬৫ ) এর কন্যা। বৃদ্ধা সৈয়দ আলীর ৪ সন্তানের মধ্যে শারমিন আক্তার ২য় । বড় বোনের বিয়ে হলেও বেশ কয়েক মাস হচ্ছে যৌতুকের টাকা দিতে না পেরে তালাক প্রাপ্ত হয়ে বাবার সংসারে অবস্থান করছে। বতমানে তার সংসারে বাবা-মা, বড়বোন, তার ছোট এক বোন এবং সবার ছোট একটি ভাই রয়েছে। পরিবারের উপার্জন বলতে এই চা বিস্কুটের দোকানটিই। একদিকে তার বাবার বয়স অন্যদিকে সংসারে প্রচন্ড অভাব । এ দুই মিলে পরিবারের সন্তান মেঝ সন্তান হিসেবে । বৃদ্ধা বাবার অভাবি সংসারে পড়ালেখার পাশাপাশি চায়ের দোকানে সহায়তা করেন শারমিন আক্তার।

ওই এলাকার সমাজপতি খোকন মিয়া বলেন, সৈয়দ আলীর পুত্র সন্তান নেই যে বৃদ্ধা বয়সে তাকে অভাবি সংসারে সার্বিক সহযোগিতা করবে। অভাব অনটনের সংসারে মেয়ে হওয়া সত্যেও পুত্রের ভুমিকা রেখেছে শারমিন। যা বর্তমান সমাজে পুত্র সন্তান দ্বারা হয়ে উঠে না। ব্যবসায়ী নান্নু মিয়া জানান, কন্যা সন্তান হয়ে জ্বন্ম নেওয়া শারমিন আক্তার পুত্রতুল্লৌ জায়গায় আশিন হয়ে বৃদ্ধা পিতা মাতাকে অভাবি সংসারে সহায়তা করে বর্তমান সমাজের পুত্র সন্তানদের শিক্ষা দিয়েছেন শারমিন আক্তার। শারমিন আক্তারের পিতা সৈয়দ আলী জানান, এমনিতে আমার দরিদ্র সংসার।তার উপরে আল্লাহ্ পাক দিয়েছেন তিন কন্যা সন্তান। আমি গর্বিত পিতা তবে সন্তানদের ঠিক মত পড়ালেখা, ভরম পোষন ও খেতে দিতে পারি না। এ জন্য বড় দুঃখ হয় আমার। সন্তানেরা সব কিছু জানেন বলে দরিদ্র পিতার কাছে আফদার করেন না। সব মানিয়ে নিয়ে পুত্রের ন্যায় সব কিছুতেই সার্বিক সহযোগিতা করেন আমার কন্যা সন্তানরা। তিনি আরো বলেন, আমার চেয়ে কত ভালো শ্রেনীর মানুষ আছে যারা সরকারি বে-সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়ে থাকেন। অথচ আমি কোন প্রকার সরকারি বা বে-সরকারি অনুদান আমার ভাগ্যে জুটেনি। শারমিন আক্তারের সঙ্গে কথা হলে সে প্রতিবেদককে বলেন আমি আমার মেঝ সন্তান । শত দুঃখ কষ্টে দিনাতিপাত করলেও আমি আমার পরিবার নিয়ে গর্ব করি। আমার কোন সমস্যা হয় না বরং সাচ্ছন্দ মনেই বাবাকে সহযোগিতা করি। আমার বাবার দরিদ্র সংসারে একটু সহযোগিতা করি এতে আমার কোন লজ্জা নেই। তবে যতদ কোন অথনৈতিক সহযোগিতা পেতাম তাহলে সংসারের পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারতাম ।

Check Also

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে রফিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *